বিশ বিশেষএই শিক্ষাটা কাজে লাগবে, বিষক্ষয় হবে এভাবেই

Send
গিয়াসউদ্দিন সেলিম, নির্মাতা
প্রকাশিত : ০০:০১, জানুয়ারি ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৩২, জানুয়ারি ০১, ২০২০

নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে দশ-এর দশক শেষ হলো (২০১০-২০১৯)। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য এটি মূলত শূন্যতার দশক। দশে ধ্স—এভাবেও বলছেন কেউ কেউ। সিনেমা, সংগীত, টিভি এমনকি মঞ্চেও নেই উল্লেখযোগ্য কোনও অর্জন। সঙ্গে চলে গেছেন অনেক গুণিজন। তবে শুরু হওয়া নতুন বছর কিংবা বিশ দশক (২০২০-২০২৯) নিয়ে প্রত্যাশার গল্পও শোনাচ্ছেন অনেকে।
বিশে (২০) বিষক্ষয়—এভাবেও মূল্যায়ন করছেন কেউ কেউ। বলছেন, এই বছর থেকে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে আসবে গুণগত পরিবর্তন। সুরাহা হবে বেশিরভাগ সমস্যার। বিশ দশক হবে দেশীয় সংস্কৃতির বৈপ্লবিক জাগরণের। আবার এমনও অনেকে আছেন, যাদের কণ্ঠে হতাশার সুর। বলছেন—দশক কিংবা নতুন বছর বলে কথা নয়। ক্যালেন্ডার বদলালেও কাজের পার্থক্য ১৯ আর ২০! মানে সামান্যই।
‘দশে ধ্স’ আর ‘বিশে বিষক্ষয়’ অথবা ‘১৯/২০’ বিষয়ে সংস্কৃতির বিভিন্ন বিভাগের উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা নিজেদের পর্যালোচনা তুলে ধরলেন বাংলা ট্রিবিউন-এর বিশেষ এই আয়োজনে।

গিয়াসউদ্দিন সেলিমশেষ দশক সত্যিই হতাশার ছিল। বিশেষ করে শেষ বছরটা তো একেবারেই ম্লান। ২০১৯ যে ভঙ্গিতে পার করলাম, সেটা কল্পনাও করিনি আমি। এখানে দর্শকদের ব্লেম দেওয়ার কিছু নেই। আমি মনে করি, দর্শকরা হলে যাওয়ার মতো ছবি পায়নি। তাই যায়নি। ফলে প্রত্যাশিত ছবিগুলো দাঁড়াতে পারেনি। এটা সিম্পল ইক্যুয়েশন।
অথচ অনেক নতুন ফরমেটের ছবি হয়েছে ১৯-এ। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে খুব আগ্রহ নিয়ে ছিলাম, এই ছবিগুলোর সফলতার জন্য। অথচ বছর শেষে দেখলাম একটা ছবিই বাণিজ্যিক বিচারে সফল। সেটি হলো শাকিব খানের ‘পাসওয়ার্ড’। এটা নকল, এটা ফর্মুলা ছবি—এসব বাজে কথা। বড় সত্যি হলো—ছবিটি দর্শকদের কানেক্ট করেছে, সফল হয়েছে। আমরা তো ছবি বানাই মানুষের জন্যই। আমি অন্তত তাই করি। আমি চাই আমার ছবি আমজনতা দেখুক। ফেস্টিভাল আমার জন্য মুখ্য নয়।
যাই হোক, আমি নিজেও ২০১৯ এ অবজারভারের ভূমিকায় ছিলাম। খুব সচেতনভাবে পুরো বছর দেখার চেষ্টা করেছি। বারবার হতাশ হয়েছি। এরমধ্যে একটা ছবি গুছিয়েছি। ‘পাপ পুণ্য’ নাম। শুটিং শেষ। পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। এ বছর (২০২০) সেটি মুক্তি দেবো। আমার বিশ্বাস, ছবিটি মানুষ দেখবে। না দেখলে, সে দায় নিশ্চয়ই আমার।
তবে এই বছরটা নিয়ে আমি ভয়ংকর আশাবাদী। আমি দেখতে পারছি, বাংলা সিনেমার জয়জয়কার। এরইমধ্যে বেশকিছু ছবি ও নির্মাতার নাম বলতে পারি, যারা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিটাকে জমিয়ে দেবে। এরমধ্যে রয়েছে মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’, অমিতাভ রেজার ‘রিক্সা গার্ল’, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’, দীপঙ্কর দীপনের ‘মিশন সুন্দরবন’, নুরুল আলম আতিকের ‘পেয়ারার সুবাস’ এমন আরও অনেক ছবি আছে পাইপলাইনে। আমার ধারণা, এই ছবিগুলোর বেশিরভাগই আমাদের হতাশার জায়গাটা মুছে দেবে।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, ২০১৯ সালেও এমন ভিন্ন ঘরানার বা ফর্মুলার ছবির বাইরেও অনেক ছবি হয়েছে। যার প্রায় সবই মুখ থুবড়ে পড়েছে। ২০২০ সালে এসে সেই ছবিগুলো নিয়ে স্বপ্ন দেখি কেমন করে?
এখানে আমার বক্তব্য হলো, ২০১৯ এর ছবিগুলো দেখে আমার মনে হয়েছে, দর্শকদের সঙ্গে আমরা নির্মাতারা সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারিনি। মানে সিনেমাটা দেখার সময় দর্শক সেটিকে নিজের মনে করতে হবে। সেই প্রপার স্টোরি টেলিংটা গেলো বছর আমাদের ছিল না।
এটাও আমাদের জন্য এক ধরনের শিক্ষা। এই শিক্ষাটাই কাজে লাগবে ২০২০ কিংবা বিশ দশকে। বিষক্ষয় হবে এভাবেই।
সবাইকে শুভ নববর্ষ।
শ্রুতিলিখন: মাহমুদ মানজুর

/এমএম/এমএমজে/

লাইভ

টপ