বিশ বিশেষএই হিপোক্রেসি থেকে মুক্তি চাই

Send
মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ, নির্মাতা
প্রকাশিত : ০০:০৫, জানুয়ারি ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫২, জানুয়ারি ০২, ২০২০

নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে দশ-এর দশক শেষ হলো (২০১০-২০১৯)। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য এটি মূলত শূন্যতার দশক। দশে ধস—এভাবেও বলছেন কেউ কেউ। তবে শুরু হওয়া নতুন বছর কিংবা বিশ দশক (২০২০-২০২৯) নিয়ে প্রত্যাশার গল্পও শোনাচ্ছেন অনেকে। বিশে বিষক্ষয়—এভাবেও মূল্যায়ন করছেন কেউ কেউ।

আবার এমনও অনেকে আছেন, যাদের কণ্ঠে হতাশার সুর। বলছেন—দশক কিংবা নতুন বছর বলে কথা নয়। ক্যালেন্ডার বদলালেও কাজের পার্থক্য ১৯/২০! মানে সামান্যই।
‘দশে ধস’ আর ‘বিশে বিষক্ষয়’ অথবা ‘১৯/২০’ বিষয়ে সংস্কৃতির বিভিন্ন বিভাগের উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা নিজেদের পর্যালোচনা তুলে ধরলেন বাংলা ট্রিবিউন-এর বিশেষ এই আয়োজনে।

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজপণ করেছি এবার কান উৎসবে যাবো। আগে থেকে প্ল্যান করলাম। এর আগে কয়েকবার যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুটিং ঝামেলায় যাওয়া হয়নি। তাই ২০ সালের শুরুতেই সিদ্ধান্ত পাকা করলাম।
আমি আসলে ১৯ আর ২০ নিয়ে কথা বলতে চাই না। মিডিয়ায় যেদিন পা রেখেছি, সেদিন থেকেই একটা বিষয় দেখে দেখে ক্লান্ত। মাঝে মাঝে খুব রাগও হয়। কিন্তু প্রকাশের সুযোগ পাই না। আজ মনে করেন, সেই রাগটুকুই উসুল করবো।
তো শুরু থেকেই দেখছি, প্রতি বছরের শেষে সবাই সালতামামি করে। যার মূল সারাংশ হলো এমন—এই বছর খারাপ গেছে, সামনের বছর অনেক প্রত্যাশা। মোটামুটি এর বাইরে আর যেতে পারিনি আমরা।
আমার কথা হলো, প্রতি বছরই ভালো আর মন্দ মিলিয়ে যায়। বছর তো দূরের কথা, প্রতিদিনও মানুষের সমান যায় না। সবচেয়ে বড় কথা, সন্তুষ্টি নেই আমাদের।
১৯ আমার জন্য সুপার বিউটিফুল। অনেক অনেক কাজ করেছি এ বছর। এরমধ্যে ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ থেকে প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি অনেক বেশি। মনে করেন, সিনেমা বানিয়েও এত অ্যাপ্রিসিয়েশন পাইনি যেটা পেয়েছি এই সিরিজটি বানিয়ে।
নতুন বছরে একটা সিনেমা বানাবো। স্ক্রিপ্টিং চলছে। এটা হবে একেবারে লুতুপুতু প্রেমের সিনেমা।
বাজার মন্দা, দর্শক নাটক দেখে না, সব ভারতে চলে গেছে, চ্যানেল টাকা দেয় না, মিডিয়ায় ক্রান্তিকাল চলছে- এসব গল্পের মধ্যে আমি নেই। আমার কথা হলো, সময়ের সঙ্গে সবই বদলাবে। টিকতে হলে সেটার সঙ্গে তাল মেলাতে হবে। আমি অলওয়েজ থিংক পজেটিভ। তাল মেলাতে না পারলে নীরবে সরে যাবো। ব্লেম দেবো না।
অনেকে বলে ভিউয়ের পেছনে ছুটছে সবাই। তো আপনিও ছোটেন। বসে আছেন কেন? এই সময়ে ভিউ হচ্ছে  জনপ্রিয়তা মাপার মূল পাল্লা। যুগে যুগে জনপ্রিয়তা মাপার অনেক ধরন ছিল। সেটা বদলে এখন ভিউ-তে এসেছে। অথচ এই ভিউ নিয়ে অনেকেই নাক সিঁটকান। জনপ্রিয় হতে কোন মানুষটা না চায়?
অনেক নির্মাতা-শিল্পীকে দেখি ভিউয়ের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেন। আবার তাদেরই কোনও একটা কাজ-ভিউ ভালো হলে, ‘মাশআল্লাহ’ লিখে সেই কাজের লিংক শেয়ার দিতে ভুল করেন না! এগুলো হচ্ছে আমাদের মিডিয়া হিপোক্রেসি। মনে এক, মুখে আরেক। এগুলো বাদ দিতে হবে।
আরেকটা বিষয়, রিসেন্ট দেখলাম আর্টিস্ট বা ডিরেক্টররা ইন্টারভিউ দেন এভাবে—‘আমার পছন্দের ডিরেক্টর ক্রিম ক্রু, প্রিয় অভিনেতা সুধাময় সরকার (দুটোই রূপক নাম)।’ গাড়িতে উঠে বা বাসায় ফিরে সেই লোকটাই সালমান খানের সিনেমা কিংবা ক্যাটরিনা কাইফের গান ছেড়ে বসে থাকে!

হিপোক্রেসির আরেকটি অভিজ্ঞতা দিয়ে আমার কথা শেষ করি। কারণ, এসব কথা তো সচরাচর বলার সুযোগ পাই না। বললেও এসব প্রকাশ করতে চায় না মিডিয়াগুলো।
ধরেন, তাহসান ভাইকে যখন ‘যদি একদিন’ সিনেমার জন্য নিলাম, তখন এই ইন্ডাস্ট্রিকে আরও ভালো চিনতে পারলাম। প্রচুর লোক তখন তাহসান ভাইকে বলেছেন, ‘রাজের সিনেমা করছেন! বাজে মেকার। আগের সব ফ্লপ। এটা কি করলেন?’ বিশ্বাস করেন, ঠিক একই লোক আবার আমাকে এসে বললেন, ‘তাহসানকে নিলেন কী ভেবে? সে তো অভিনয়ই পারে না। জাস্ট স্টিল পিকচার। আপনাকে ডোবাবে।’
‘যদি একদিন’ প্রচারণায় রাজ ও তাহসানআমার আর তাহসান ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো বলে এগুলা নিয়ে আমরা খুব হাসাহাসি করতাম। তবে ভেতরে ভেতরে খুব কষ্ট লাগতো। মনে হতো, একটা মানুষ এতটা হিপোক্রেট কী করে হয়! ইন্ডাস্ট্রিটাকে আরও উঁচুতে নিতে হলে, আমাদের সম্মিলিত উন্নতি প্রত্যাশা করার আগে এই হিপোক্রেসি থেকে মুক্তি চাই।
১৯-এর মতো ২০-এ ভালো ভালো কাজ হবে। প্রচুর ইয়াং ডিরেক্টর এসেছেন। আসছেন আরও। এরা অসম্ভব মেধাবী।
জানেন তো, জন্ম, মৃত্যু আর বিয়ে—এগুলা সব আল্লাহ হাতে। তবে এবার আমি বেড়ানোর জন্য প্যারিসের কান উৎসবে যাবোই। এটুকু নিশ্চিত।
শুভ নববর্ষ।
শ্রুতিলিখন: মাহমুদ মানজুর

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ