বিশ বিশেষএই চ্যালেঞ্জ নিজের সঙ্গে নিজের

Send
টিনা রাসেল, কণ্ঠশিল্পী
প্রকাশিত : ১৫:০৩, জানুয়ারি ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৪, জানুয়ারি ০২, ২০২০

নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে দশ-এর দশক শেষ হলো (২০১০-২০১৯)। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য এটি মূলত শূন্যতার দশক। দশে ধস—এভাবেও বলছেন কেউ কেউ। তবে শুরু হওয়া নতুন বছর কিংবা বিশ দশক (২০২০-২০২৯) নিয়ে প্রত্যাশার গল্পও শোনাচ্ছেন অনেকে। বিশে বিষক্ষয়—এভাবেও মূল্যায়ন করছেন কেউ কেউ।
আবার এমনও অনেকে আছেন, যাদের কণ্ঠে হতাশার সুর। বলছেন—দশক কিংবা নতুন বছর বলে কথা নয়। ক্যালেন্ডার বদলালেও কাজের পার্থক্য ১৯/২০! মানে সামান্যই।
‘দশে ধস’ আর ‘বিশে বিষক্ষয়’ অথবা ‘১৯/২০’ বিষয়ে সংস্কৃতির বিভিন্ন বিভাগের উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা নিজেদের পর্যালোচনা তুলে ধরলেন বাংলা ট্রিবিউন-এর বিশেষ এই আয়োজনে।

টিনা রাসেল১৯-এর শেষ আর ২০-এর শুরুটা খুবই ব্যস্ততার মধ্যে গেলো আমার। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিঙ্গাপুর−টানা শো করতে হয়েছে। এখন (১ জানুয়ারি) আমি সিঙ্গাপুরে। এখানে বর্ষবরণের শো করলাম। অসাধারণ ক্রাউড। খুবই গোছানো ইভেন্ট। মনে হচ্ছে, বছরটা এভাবেই গানে গানে কাটবে।
বাংলা ট্রিবিউন-এর সুবাদে এই দূর পরবাসে বসে গেলো বছরের দিকে ফিরে তাকালাম। খুব আবেগতাড়িত হলাম। অস্ফুটস্বরে নিজেকে একটা থ্যাংকস দিলাম। বললাম, ‘টিনা, ভেঙে না পড়ে এভাবেই নিজেকে সামলে নিও আজীবন।’
২০১৯ আমার জীবনের জন্য নানা কারণে স্মরণীয় একটি বছর। এই বছরটা আমার কাছ থেকে যেভাবে কেড়ে নিয়েছে, আবার দিয়েছেও অনেক।
মা তো অনেক আগেই চলে গেছেন। ১৯ এর শুরুতে এসে বাবাটাও চলে গেলেন হুট করে। একবার ভাবুন, একজন সিঙ্গেল মানুষের জীবনে বাবা-মায়ের শূন্যতা কতটুকু হতে পারে। এটা যার জীবনে ঘটে, সে ছাড়া অন্য কেউ অনুভব করতে পারবে না।
বাবা চলে গেলেন। পাশাপাশি সময়ে একমাত্র ভালোবাসার মানুষটাকে নিজের করে পেলাম। বিয়ে করলাম। বিষয়টি সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে বিশেষ উপহারের মতোই। দ্রুত সময়ে আমার জীবনে বড় একটা পরিবর্তন চলে এলো। এটা ছিল ২০১৯ এর শুরুটা।      
১৯ এর পরের মাসগুলো বেশ কেটেছে। অন্য একটা জীবন। অসাধারণ অনুভূতি। অন্যরকম দায়বদ্ধতা। হ্যাঁ, এই সময়টাতে আমি গান একটু কম করেছি। তবে গানের জন্য প্রচুর পরিকল্পনা করেছি। বছরের শেষের দিকে নিজের নামে একটি অনলাইন ফ্যাশন হাউজ গড়েছি।
২০ সাল হলো এই উদ্যোগ আর পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের বছর।
বরাবরই আমি যে যে জায়গায় নিজেকে দেখতে চেয়েছি, তার ধারেকাছেও যেতে পারিনি এ পর্যন্ত। কারণ চলতি পথে নানা প্রতিবন্ধকতা, অনেক স্ট্রাগল ছিল। নতুন বছরে এসে আমার সামনে সেই বাধাগুলো আর থাকছে না। এখন আমি বেশ গুছিয়ে নিয়েছি। হাজবেন্ডের পূর্ণ আস্থা আর সমর্থন আছে আমার গানের প্রতি। কারণ তিনি নিজেও গান দুনিয়ার অসাধারণ একজন মানুষ।
সত্যি বলতে, বিশ সালে এসে নিজেকে একজন পরিণত মানুষ বলে মনে হচ্ছে। তাই এই বছরটা আমার জন্য যেমন গানের, তেমন চ্যালেঞ্জের। এই চ্যালেঞ্জ নিজের সঙ্গে নিজের।
দোয়া চাই সবার। হ্যাপি নিউ ইয়ার।
শ্রুতিলিখন: মাহমুদ মানজুর

/এমএম/এমএমজে/

লাইভ

টপ