‘ঝুম’ রেকর্ড, মিনার বলছেন ‘ফিলোসফিক্যাল উইন’

Send
সুধাময় সরকার
প্রকাশিত : ১৮:০৩, জানুয়ারি ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৯, জানুয়ারি ০৯, ২০২০

মিনার রহমান/ ছবি: সাজ্জাদ হোসেননতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে ইউটিউবে ৪ কোটি ভিউ অতিক্রম করলো মিনার রহমানের গান ‘ঝুম’। এটা এক অর্থে রেকর্ড। কারণ, এই ধারার গান করে এমন উচ্চতায় এখনও যেতে পারেনি অন্য কেউ।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে উঠে আসা আরমান আলিফ কিংবা সেরা নায়ক শাকিব খানের রেশ ধরে বেশ কিছু গানের ভিউ চার কোটির ওপরে থাকলেও, সেটিকে আধুনিক মৌলিক গানের তালিকায় তোলা ঠিক হবে না। সে হিসেবে আধুনিক বাংলা গানের ইউটিউব দৌড়ে এখন সবচেয়ে এগিয়ে আছেন মিনার ও তার ‘ঝুম’।
মিনারের কথা, সুর ও কণ্ঠে গানটির সংগীতায়োজন করেছেন সাজিদ সরকার। ভিডিও নির্মাণ করেছেন তানিম রহমান অংশু। আর ২০১৬ সালের ১৬ জুন গানটি ইউটিউবে উন্মুক্ত করেছে গানচিল মিউজিক।
৪ কোটির মাইলফলক ছোঁয়ার এই কৃতিত্ব সংশ্লিষ্ট সবাইকে দিলেন মিনার। বললেন, ‘‘চলমান সংগীত বাংলায় ‘ঝুম’ গানটির এই অবস্থানকে আমি দেখি ‘ফিলোসফিক্যাল উইন’ হিসেবে। কারণ, যে গানগুলো হিট বা ভাইরাল হচ্ছে, ‘ঝুম’ মোটেই সেই ঘনারার কাজ নয়। সহজ ভাষায় বলতে পারি, এটা একেবারেই স্রোতের বিপরীতে এগিয়েছে গেল তিন বছর। যারা গানটির সঙ্গে ছিলেন, এখনও আছেন, কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতি।’’

মঞ্চ ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা থেকে মিনার জানান, এই গানটিকে মানুষ আত্মিকভাবে নিয়েছে। বাংলাদেশ পেরিয়ে ভারত, পাকিস্তান হয়ে ব্রাজিল পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বলেন, ‘গানটির কমেন্টবক্স ঘাঁটলে দেখবেন, বিভিন্ন দেশ ও ভাষার মানুষ কথা বলছে গানটি নিয়ে। এরমধ্যে ব্রাজিলের শ্রোতারাও আছেন! তারা হয়তো লিরিক বুঝছেন না, কিন্তু ঝুম ধুনটাকে টেনে নিয়েছেন বুকে। ফলে এই বিষয়টিকে আমি বলবো ফিলোসফিক্যাল উইন। কারণ, গানটি আমি তৈরি করেছি একেবারে নিজের ফিলোসফি থেকে। চেষ্টা করেছি বৃষ্টির শব্দটাকে ধরে একটা ধুন তৈরি করতে। এরপর সেই রেশ ধরে কিছু কথা বলতে। আমার সবচেয়ে আনন্দ হয়, যখন ভাবি- গানটিকে মানুষ এভাবে গ্রহণ করেছে। কারণ এটি ফোক নয়, সচরাচর ঢঙে সাজানো গান নয়। সত্যিই গর্ব হয়, যখন দেখি আমার এই ফিলোসফিটাকে মানুষ নিজের করে নিলো। কারণ, আমার ধারণা ছিল শ্রোতারা বোধহয় আমার এই কর্মটা রিলেট করতে পারবে না। এখন দেখছি, আমিই ভুল!’

‘ঝুম’ তৈরির প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে মিনার জানান, মূল গানটি লেখা ও সুর তৈরির অনেক আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম মুখটুকু। মানে একেবারের শুরুর ধুনটুকু- ঝুম... তেরে রারে রারি রে...। এই অংশটা অনেকদিন তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো। এরপর সেটির রেশ নিয়ে পুরো গানটির কথা-সুর শেষে করেন। পরের কাজটি খুব দ্রুতই শেষ হয় গানচিলের উদ্যোগে।


এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে মিনার ব্যস্ত আছেন স্টেজ শো আর ভালোবাসা দিবসের ভাবনা নিয়ে। এরমধ্যে জানুয়ারিতে একটি আর ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ পাচ্ছে তার দুটি গানচিত্র। তার বিশ্বাস, ২০২০ সাল মিউজিকের জন্য অসাধারণ একটা বছর হবে তার জন্য এবং সবার জন্য।

কিন্তু নতুন বছরের মিউজিক কিংবা মিউজিক্যাল ফিলোসফিতে কোনও বৈচিত্র্য থাকছে কী? মিনার বলেন, ‘‘দেখুন আমি কিন্তু খুব বেশি গান করি বা করতে চাই- তা কিন্তু নয়। পেছনে তাকালে দেখবেন, আমার গানগুলো একটা থেকে আরেকটার কনসেপ্ট বেশ আলাদা। এটা সম্ভব কাজ কম করার সুবাদে। আমার ‘কারণে অকারণে’, ‘দেয়ালে দেয়ালে’, ‘ঝুম’, ‘আহারে’- সবই আলাদা। কণ্ঠের বাইরে তেমন মিল পাবেন না। অভাবে পড়লেও এটা মেনটেইন করার চেষ্টা করি। নতুন বছরেও সেই চেষ্টা থাকবে। কারণ, এটাই আমার ফিলোসফি।’’

সিনেমার দিকেও এবার একটু ঝুঁকে থাকবেন, অস্ফুটস্বরে জানালেন বাংলা সংগীতের এই ঝুম-বালক।

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ