ভারতের অস্তিত্ব প্রসঙ্গে কথা বলে তোপের মুখে সাইফ

Send
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩:০০, জানুয়ারি ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৫, জানুয়ারি ২২, ২০২০

সাইফ আলি খানবলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের শিকার হচ্ছেন। ব্যাপক নেতিবাচক মন্তব্য হজম করতে হচ্ছে তাকে। অনুপমা চোপড়ার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ফিল্ম কোম্পানিয়নে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তার বলা কিছু কথাকে ঘিরে এই সমালোচনার জন্ম।

ক’দিন আগে মুক্তি পেয়েছে সাইফের নতুন ছবি ‘তানহাজি: দ্য আনসাং ওয়ারিয়র’। তবে এতে তুলে ধরা ইতিহাস ভুল বলে মনে করেন তিনি! ছবিটির গল্পে রাজনীতির প্রসঙ্গ উঠতেই তার মন্তব্য, ‘ব্রিটিশরা এ ভূখণ্ডে আসার আগে সম্ভবত ভারতের কোনও অস্তিত্ব ছিল না।’

তবু ছবিটিতে অভিনয়ের কারণ প্রসঙ্গে সাইফ বলেন, ‘কিছু কারণে আমি এর বিপরীতে অবস্থান নেইনি। হয়তো আগামীতে নেবো। ছবিটিতে আমার চরিত্র নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলাম। কারণ, এটা দারুণ। কিন্তু যখন লোকে বলে এটাই ইতিহাস, তখন আমার মনে হয় না তা ঠিক। কারণ, ইতিহাস সম্পর্কে আমি যথেষ্ট সচেতন।’

সাইফের এসব মন্তব্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত। তার কথায়, ‘ব্রিটিশদের আগে ভারতের অস্তিত্ব যদি না থাকতো, পাঁচ হাজার বছরের পুরনো মহাভারত এলো কোত্থেকে। বেদ ভাষ্য লেখা হলো কীভাবে। কৃষ্ণ মহাভারতে ছিলেন। তখন ভারতও ছিল। সেজন্যই এটি মহান। আমাদের দেশের অনেক শক্তিমান রাজা যুদ্ধ করেছেন। তারাই ছিলেন ভারত।’

সাইফের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ভারতীয় লেখক তারেক ফাতাহ লিখেছেন, ‘সাইফের কথা ধরে বলা যেতে পারে, ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল চীনে আর ভাস্কো দা’গামা ফিজিতে গিয়েছিলেন!’

আরেকজনের মন্তব্য, ‘প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ সাইফ আলি খান বলছেন, তানহাজি ঐতিহাসিকভাবে নির্ভুল নয়। কয়েক দশক ধরে বামপন্থীরা এভাবেই ইতিহাসকে হোয়াইটওয়াশ করছে। আরে ভাই, শিবাজি ও চাণক্যকে জানুন, তাহলেই বুঝবেন ভারতের বয়স কত।’

অন্য একজন নিশ্চিত, ‘সাইফ কখনও তুর্কি শাসক তিমুর সম্পর্কে শোনেননি। চতুর্দশ শতকে এশিয়ার বেশিরভাগ অংশে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে সে। তা না হলে তিনি কখনও ছেলের নাম তৈমুর রাখতেন না।’

মালাবিকা অবিনাশ নামের এক নারী লিখেছেন, ‘আমাদের নতুন ইতিহাসবিদ সাইফ আলি খান! প্রশ্ন হলো, তার ইতিহাসের শিক্ষক কে? তিনি কি তিমুর?’

ছেলের নাম তৈমুর আলি খান রাখায় সাইফকে খোঁচা দিয়েছেন বিজেপির মুখপাত্র মিনাক্ষী লেখি। টুইটারে একটি টুইটের উত্তরে তিনি লিখেছেন, ‘তুর্কিরা তিমুরকে নিষ্ঠুর মনে করলেও কিছু লোক সন্তানের নাম হিসেবে তৈমুর বেছে নিয়েছেন।’

টুইটারের একটি অ্যাকাউন্টে দুটি প্রাচীন মানচিত্র শেয়ার করে সাইফকে উদ্দেশ করে লেখা হয়েছে, ‘প্রিয় সাইফ আলি খান, প্রাচীন মানচিত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, ব্রিটিশরা আসার বহু আগে থেকে ভারতের অস্তিত্ব ছিল।’

রাহুল কুমার ভার্মা নামের একজন একটি পুরনো মানচিত্র পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, ‘স্বাধীনতার বহু আগের মানচিত্রটি সাইফ আলি খানের দেখা উচিত। এটি হাজার বছরের আগের। কিছু বলার আগে ইতিহাস ভালোভাবে পড়ে নিন।’

তির্যকভাবে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘হ্যাঁ, সাইফ আলি খান সঠিক। ভারত তৈরিতে ব্রিটিশ শাসকরা আমাদের বাধ্য করেছে। এর আগে ছিল অশোকার ভারতবর্ষ। কিছু মানুষ শুধু রাজনৈতিকভাবে সঠিক থাকতে চায়, প্রকৃত ইতিহাস তাদের জানা নেই। লজ্জার ব্যাপার!’

সাইফ আলি খান ও কারিনা কাপুরের সঙ্গে তৈমুরত্রয়োদশ শতাব্দীতে দিল্লিতে আক্রমণ চালানো মধ্য এশিয়ার স্বৈরশাসক তিমুরের সঙ্গে মিল রেখে ছেলের নাম রাখার কথা অস্বীকার করেন সাইফ ও কারিনা কাপুর খান। তখন ছোট নবাব মুম্বাই মিরর পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও আমি নামটি পছন্দ করি এবং এর অর্থ আমাদের ভালো লাগে। তুর্কি শাসক তিমুরের কথা জানি। কিন্তু আমাদের ছেলের নাম তৈমুর। এটি প্রাচীন পারস্য নাম, যার অর্থ লোহা।’

সপ্তদশ শতকের প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছে ‘তানহাজি: দ্য আনসাং ওয়ারিয়র’। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অজয় দেবগন। তার বিপরীতে আছেন কাজল। সাইফকে এতে দেখা গেছে রাজপুত জেনারেল উদয়ভান রাঠোর চরিত্রে। ১৬৭০ খ্রিষ্টাব্দের ‘ব্যাটল অব সিংহাগাদ’কে ঘিরেই ছবিটির গল্প। এতে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন মারাঠি সম্রাট শিবাজী মহারাজের সেনাপতি তানহাজি মালুসারি। ওম রাউত পরিচালিত ছবিটির আয়ের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ২০০ কোটি রুপি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

/জেএইচ/এম/

লাইভ

টপ