করোনায় করুণা নয়, চাই শিল্পীর অধিকার: জ্যোতিকা জ্যোতি

Send
বিনোদন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:১১, এপ্রিল ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৩, এপ্রিল ১৮, ২০২০

জ্যোতিকা জ্যোতিশুটিং বন্ধ এক মাসের ওপর। শিল্পী-কুশলীরা সবাই কোয়ারেন্টিন নামে গৃহবন্দি। স্বাভাবিক, প্রফেশনাল শিল্পীদের জন্য বিষয়টি আর্থিক বিচারে ক্ষতির কারণ।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হলিউড-বলিউডসহ এতেদিন ঢাকাতেও মূল ভাবনা ছিল নাটক-সিনেমা-সংগীতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত টেকনিশিয়ান বা সহকারীদের নিয়ে। তাদের সাহায্যে এগিয়ে গেছেন বিভিন্ন তারকা ও সংগঠন।
তবে প্রফেশনাল শিল্পীদের জন্য কোনও প্রণোদনা কিংবা বন্ধ হওয়া আয়ের বিপরীতে উদ্যোগের খোঁজ মেলেনি এখনও। দিন যত যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় যার প্রতিধ্বনি ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। তাদের এই অর্থহীন অনিশ্চিত সময় নিয়ে এরমধ্যে ফেসবুকে পোস্ট দেন নির্মাতা পিকলু চৌধুরী। তবে অভিনয় শিল্পীদের মধ্যে এ বিষয়ে প্রথম বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানান জ্যোতিকা জ্যোতি।

শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে (১৮ এপ্রিল) দেওয়া ফেসবুক পোস্টে জ্যোতি স্পষ্ট কণ্ঠে জানিয়ে দেন, ‘করোনায় কারও করুণা চাই না, চাই শিল্পীর সম্মান ও অধিকার।’


তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এই পেশার লোকদের আদৌ কেউ সম্মান করে কিনা, সে বিষয়ে আমি যথেষ্ট সন্দিহান! কিন্তু সামাজিক দায়িত্ব, সমাজ সচেতনতা, এগুলোতে অংশগ্রহণ না করলে আবার দারুণ অপরাধ হয় আমাদের। কোটি টাকা বাজেটের কোনও সরকারি-বেসরকারি প্রজেক্টে অভিনয়শিল্পীকে ফ্রি সচেতনতামূলক বাণী দিতে হবে! না হলে শিল্পীর সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকলো কই? কোটি টাকার বাজেট হলেও শিল্পীর জন্য একেবারেই রাখা যাবে না। বাকি টাকাটা হাওয়ায় উড়ে যাবে। আর শিল্পীরা শুধু হাওয়া খেয়ে বাঁচবে!’
জ্যোতি জানান, একজন প্রফেশনাল শিল্পীর মূল আয়ের উৎস অভিনয় বা শুটিং। তাও আবার সেটা দিন হিসেবে কাউন্ট হয়, দিনমজুরের মতো। শুটিং বন্ধ, তাই শিল্পীদের আয় বন্ধ। এই শুটিং কবে নাগাদ শুরু হবে, সেটিরও কোনও নিশ্চয়তা নেই। এমন পরিস্থিতিতে শিল্পীদের মতো দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত এই অভিনেত্রী।
জ্যোতিকা জ্যোতিজ্যোতি বলেন, ‘টেলিভিশন শিল্পী সংঘ থেকে ম্যাসেজ এসেছে কোনও দুস্থ শিল্পী আগ্রহী থাকলে সরকারি সাহায্যের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ে তার নাম পাঠানো হবে। সংঘ তার দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু সরকারের এই দুই-চার হাজার বা দুই-চার লাখ টাকার সাহায্য দিলেই বা আমি নেবো কেন? ক্ষুধার পাশাপাশি আত্মসম্মানও তো আছে শিল্পীর। করোনাকালের এই অল্প, অনিশ্চিত সরকারি করুণায় জীবন চলবে কী? বসে খেয়ে তো রাজার ভাণ্ডারও একদিন ফুরায়। আপনি-আমিতো একটি দরিদ্র ইন্ডাস্ট্রির একজন কর্মী মাত্র!’
জ্যোতিকা জ্যোতি একজন শিল্পী হিসেবে নিজের অধিকারটা বুঝে নিতে চান রাষ্ট্রের কাছ থেকে। তার ভাষায়, ‘হাওয়া খেয়ে বা বিশেষ দিবসে বিশেষ কোনও চা-চক্রের দাওয়াতে গিয়ে আমার পেট ভরবে না। আর আত্মসম্মান বিকিয়ে করুণা নিয়েও আমার শান্তি আসে না।’
নিজেদের পেশাগত অধিকার ও দেশের শিল্প-সংস্কৃতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ‘মায়া: দ্য লস্ট মাদার’-খ্যাত এই অভিনেত্রী।
অন্য শিল্পীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত আমার মতো এমন অনেক শিল্পী আছেন, আওয়াজ তুলুন। নিজের জীবন ও সম্মান রক্ষা করুন।’

জ্যোতির এই প্রতিবাদী পোস্টের সমর্থন জানিয়েছেন দেশের বেশিরভাগ অভিনয়শিল্পী-কুশলী।  
জ্যোতির পোস্ট:

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ