‘বাংলায় খেয়াল-ধ্রুপদ গান প্রতিষ্ঠার অক্লান্ত এক যোদ্ধার বিদায়’

Send
বিনোদন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:০৫, মে ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৯, মে ১৭, ২০২০

ক‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’—কালজয়ী এমন গান এসেছিল সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমানের কাছ থেকে। এ বঙ্গে জন্মে শুধু নিজে গর্ব অনুভব করেননি; তিনিও বাংলা সংগীতকে ধন্য করেছেন তার মেধা-মনন দিয়ে। দেশবরেণ্য এ মানুষের বিদায়ে সংগীতাঙ্গনে তাই এখন শোকের ছায়া। গতকাল (১৬ মে) বিকাল সাড়ে ৪টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। রাত সাড়ে আটটায় গ্রিন রোড ডরমেটরি মসজিদে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। গুণী এ মানুষকে সম্মান জানাতে গতকাল বিকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন। সেসব শ্রদ্ধাঞ্জলিই থাকছে এ আয়োজনে:

মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, গীতিকবি

চলে গেলেন আজাদ রহমান। বাংলা গানের বাঁক বদলের আর এক কারিগর আজাদ রহমান। সুরের স্ক্যানিং নিয়ে বিচিত্র নিরীক্ষায় ছিল তাঁর মৌলিকতা। বেতারে আমার গানের কবিতার প্রথম সুরস্রষ্টা আজাদ রহমান। বাংলায় খেয়াল ধ্রুপদ গানের প্রতিষ্ঠার এক অক্লান্ত যোদ্ধা আজাদ রহমান। তাঁর রুহের মাগফেরাতের জন্যে অন্তর থেকে প্রার্থনা জানাই।

একেএম আরিফুর রহমান, চেয়ারম্যান লেজার ভিশন

একে একে মাথার ওপর থেকে সব ছায়া সরে যাচ্ছে। আমরা লেজার ভিশন পরিবার দিনে দিনে হয়ে পড়ছি অভিভাবকহীন, দেশ হয়ে যাচ্ছে মেধাহীন। সর্বজন শ্রদ্ধেয় গুণী সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমানের মৃত্যুতে আমরা লেজার ভিশন পরিবার গভীর শোকাহত। দোয়া করি আল্লাহ যেন উনাকে বেহেশত নসীব করেন, আমিন।

আসিফ আকবর, গায়ক

গানের জগতে আমার নাম-ডাক যাই থাকুক, কিছু জায়গায় ঝিনুকের মতো শক্ত খোলসে নিজেকে আটকে রাখি। প্রবল পরাক্রমশালী সংগীতজ্ঞদের সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সবাই আমাকে কেন যেন খুব দ্রুত তাদের কাছে টেনে নিয়েছেন! একান্তই বাধ্য না হলে আমি দেশের মহীরুহ সংগীতজ্ঞদের ত্রিসীমানায় অযথা ঘোরাঘুরি করিনি কখনও। উনাদের সামনে পড়ে গেলে শ্রদ্ধায় নুয়ে পড়েছি বারবার। সবসময় চেষ্টা করেছি যথাযথ সম্মান জানানোর।

বাংলাদেশের একজন অমর কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ শ্রদ্ধেয় আজাদ রহমান স্যার ইন্তেকাল করেছেন। আজাদ রহমান স্যার সম্বন্ধে লিখে পাণ্ডিত্য দেখানোর যোগ্যতা আমার নেই। ছোটবেলায় এক ব্যান্ডের রেডিওতে উনার নাম শুনতাম উপস্থাপকের মুখে। কুমিল্লা রূপকথা সিনেমা হলে ‘দস্যু বনহুর’ সিনেমা দেখা তখন শেষ। আর রেডিওতে কান দিয়ে অপেক্ষা করতাম আজাদ রহমান স্যারের সুর করা এবং নিজ কণ্ঠে গাওয়া ‘ডোরাকাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়’ গানটি শোনার জন্য। সেই সময়ে কী দুর্দান্ত সৃষ্টি তিনি করে গেছেন, যা এখন ভাবাই যায় না। ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’, ‘এক বুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু তুমি’, ‘মনেরও রঙে রাঙাবো’, ‘ভালোবাসার মূল্য কত’, ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’—এ ধরনের অনেক অমর সৃষ্টি সমৃদ্ধ করেছে বাংলা সংগীতের ভাণ্ডার। সম্ভ্রান্ত বংশীয় শিক্ষিত একজন দানবীরের মহাপ্রয়াণে আমরা শোকাহত।

তারিন জাহান, অভিনেত্রী
গুণী মানুষের মৃত্যুর মিছিলে এবার আজাদ আংকেল। আপনার সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখ, অমায়িক ব্যবহার, ছোটবেলায় আপনার গ্রিনরোডের স্টুডিওতে আপনার সুরে গান শেখার স্মৃতি মনে পড়ছে। এই গুণী মানুষটির যে স্নেহ ভালোবাসা পেয়েছি, তা কখনোই ভুলবো না। ওপারে অনেক ভালো থাকবেন আংকেল।

নিপুণ, চিত্রনায়িকা
বিখ্যাত সুরকার গুণী সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমান আর নেই। আপনার আত্মার শান্তি কামনা করি। ওপারে অনেক ভালো থাকবেন।লকডাউনের কিছুদিন আগে আজাদ রহমানের বাসায় সংগীত পরিচালকদের আড্ডা

শওকত আলী ইমন, সংগীত পরিচালক

করোনা লকডাউনের কিছু দিন আগে আমরা ক'জন উনার বাসায় হাজির হয়েছিলাম। সেটিই স্যারের সঙ্গে শেষ দেখা আমরা বুঝিনি। সৃষ্টিকর্তা তার আত্মাকে শান্তি দিক।

ফরিদ আহমেদ, সংগীত পরিচালক

বিশাল এক দায়িত্ব দিয়েছিলেন আমার এই ছোট্ট কাঁধে। আপনার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে কিছু দিন আগে একসাথে জড়ো করেছিলাম দেশের প্রায় সব সিনিয়র সংগীত পরিচালককে। তারপর? আর তো কিছু বলছেন না! ফেলে রেখে গেলেন এক অজানা পথে। শান্তিতে থাকুন ওপারে।

/এম/এমওএফ/

লাইভ

টপ