সাড়া দিচ্ছেন সৌমিত্র, তবে শঙ্কামুক্ত নন

Send
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৪৭, অক্টোবর ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৫, অক্টোবর ১৩, ২০২০

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

সাড়া দিচ্ছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বাইপ্যাপ সাপোর্ট অর্থাৎ নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনেই রাখা হয়েছে এখনও। চিকিৎসকরা মনে করছেন, অচেতন থেকে সাড়া দেওয়ার বিষয়টি কিছুটা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিশেষ বুলেটিন প্রকাশ করে জানালো কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ।
গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সেখানে চিকিৎসাধীন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। জানা গেছে, সৌমিত্রের শরীরে এখনও সামান্য জ্বর আছে। সামগ্রিকভাবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়নি। খারাপ কিছু পাওয়া যায়নি মস্তিষ্কের এমআরআইতেও।
হাসপাতাল সূত্রে বলা হয়েছে, সৌমিত্রের অবস্থা ‘আপাতত স্থিতিশীল’। তবে উদ্বেগ এখনও কাটেনি। প্রবীণ অভিনেতা পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন বলেই জানান চিকিৎসকরা। এদিন দুপুরে তাকে নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রের আরও খবর, সৌমিত্রের শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক নেই। তবে চিকিৎসকদের আশা, ওষুধের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
করোনায় সংক্রমিত সৌমিত্রকে গত মঙ্গলবার বেলভিউ নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়। সেই থেকেই চিকিৎসাধীন তিনি। শুক্রবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সোমবার হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সৌমিত্রের প্রোস্টেটের পুরনো কর্কটরোগ (ক্যানসার) ফিরে এসেছে। ছড়িয়ে পড়েছে ফুসফুস ও মস্তিষ্কে। সংক্রমণ ঘটেছে মূত্রথলিতেও। তবে দ্বিতীয়বার প্লাজমা থেরাপির পর খানিকটা হলেও উন্নতি লক্ষ করা গেছে।
গত বছর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তিনি প্রোস্টেট ক্যানসার, সিওপিডি, প্রেসার, সুগারে ভুগছেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিজের একটি বায়োপিকের শুটিংয়ের জন্য সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় টালিগঞ্জের ভারতলক্ষ্মী স্টুডিওতে যান। সেখানেই শুটিংকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
১ অক্টোবর থেকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জ্বর হয়। গত ৫ অক্টোবর তার করোনার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ৬ অক্টোবর বেলভিউ নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয় তাকে।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বয়স এখন ৮৫ বছর। ১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে। পড়াশোনা করেন হাওড়া জেলা স্কুল, স্কটিশ চার্চ কলেজ, কলকাতার সিটি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি ২০১২ সালে পেয়েছেন ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। আরও পেয়েছেন দেশ-বিদেশের বহু পুরস্কার। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ফ্রান্সের ‘লেজিয়ঁ দ্য নর’ পুরস্কার (২০১৮)। পেয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পদ্মভূষণসহ (২০০৪) ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র, সংগীত নাটক অ্যাকাডেমি, ফিল্মফেয়ারসহ নানা পুরস্কার।

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ