মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করলেন রিপাবলিকানদের হয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিরবৈরি দেশ রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থিতা বাছাইয়ের অংশ হিসেবে সর্বশেষ একযোগে ৫টি অঙ্গরাজ্যে জয়ের একদিন পর ওয়াশিংটনে নিজের পররাষ্ট্রনীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের নেওয়া পররাষ্ট্রনীতিকে ‘পুরোপুরি এক বিপর্যয়’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় পাঁচ অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান পার্টি থেকে সবগুলো অঙ্গরাজ্যে জয় নিশ্চিত করেন ট্রাম্প। এরইমধ্যে নিজেকে অঘোষিত রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করতে শুরু করেছেন তিনি। আর সে আত্মবিশ্বাস আরও জোরালো হয়ে ওঠে বুধবার ওয়াশিংটনে দেওয়া ভাষণে। এদিন স্থানীয় এক হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজের পরিকল্পিত পররাষ্ট্রনীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তার প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা সহায়তা দিয়ে থাকে সেসব দেশকে অবশ্যই মূ্ল্য পরিশোধ করতে হবে। যদি তারা মূল্য পরিশোধ না করে তবে যুক্তরাষ্ট্রের তাদেরকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার দরকার নেই।’
আরও পড়ুন: কলোরাডোর মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ট্রাম্প
এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পররাষ্ট্রনীতিকে 'অবিবেচক ও উদ্দেশ্যহীন' বলে সমালোচনা করেন তিনি।
এর আগে গত মাসে নিউ ইয়র্ক টাইমসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ওরা যখন হামলার শিকার হয় তখন যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দেয় কিন্তু আমরা যখন হামলার শিকার হই তখন ওরা আমাদের সুরক্ষা দেয় না। এটিই হলো সত্যিকারের সমস্যা।’
রাশিয়া আর চীনের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা নিরসনের আশ্বাস দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন। তবে চীনের সঙ্গে কিভাবে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাবেন তা জানাননি তিনি। আরও পড়ুন:ভাবমূর্তি বদলে ফেলছেন ট্রাম্প!
নির্বাচনী প্রচারণায় নামার পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রাসী মন্তব্য করে সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এজন্য নিজের দলের ভেতরেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তবে, সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, পররাষ্ট্রবিষয়ক সম্পর্ক নিয়ে নিজের প্রথম এই বক্তৃতায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আগের চেয়ে কৌশলী ও সংযত মনে হয়েছে। লিখিত ভাষ্যের বাইরে কোন কথা বলেননি তিনি।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় যে পাঁচটি রাজ্যে প্রাইমারি অনুষ্ঠিত হয় সেগুলো হলো মেরিল্যান্ড, পেনসিলভানিয়া, কানেক্টিকাট, ডেলাওয়ার ও রোড আইল্যান্ড। এ পাঁচটি রাজ্যের মোট ডেলিগেট সংখ্যা ১১৮টি। এর মধ্যে ট্রাম্প পেয়েছেন কমপক্ষে ৮২ ডেলিগেট। এর ফলে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ট্রাম্পের এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত মোট ডেলিগেট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৯২৯। রিপাবলিকান দল থেকে মনোনয়ন পেতে কোনও প্রার্থীর দরকার কমপক্ষে ১,২৩৭ ডেলিগেট। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/বিএ/








