পাকিস্তান পিপলস পার্টি বা পিপিপি’র চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো পানামা পেপারস নিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মিরে আয়োজিত এক জনসভায় দেওয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি।
নওয়াজের উদ্দেশ্যে বিলাওয়াল বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইস্তফা দিন। নির্দোষ প্রমাণিত হলে আবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ফিরে আসবেন।
এ ছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বন্ধু নওয়াজের পতনের জন্য জনগণ এবং নিজ দলের সমর্থকদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান বিলাওয়াল।
৩ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে দুনিয়ার প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং রাঘববোয়ালদের আর্থিক কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস করে সাড়া ফেলে আলোচিত ‘পানামা পেপারস’। তবে মোস্যাক ফনসেকার পক্ষ থেকে দাবি করেছে, তারা হ্যাকিংয়ের স্বীকার হয়েছে। মোস্যাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া গোপন নথিতে অর্থ পাচারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছেলের নামও উঠে আসায় নিজ দেশে চাপের মুখে পড়েন।
নওয়াজ শরিফ অবশ্য এ ঘটনায় একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করেছেন। বিরোধী দলের চাপের কারণেই তাকে এমনটি করতে হয়েছে বরে মনে করা হচ্ছে। তাছাড়া অফশোর অ্যাকাউন্ট থাকা বা সেখানকার কোনও কোম্পানির মালিক হওয়া পাকিস্তানের আইনে অবৈধ নয়।
মোস্যাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া গোপন নথিতে ছেলের নামও উঠে আসা প্রসঙ্গে নওয়াজ শরিফ বলেন, ‘কখনোই জাতির বিশ্বাসের সঙ্গে বেঈমানি করিনি।’
পাকিস্তান গণমাধ্যমগুলো পানামা পেপারসকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে এর ফলে নওয়াজ শরিফের আসন না নড়লেও রাজনৈতিকভাবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান আস্কারি রিজভি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ‘নওয়াজ শরিফকে চাপ প্রয়োগ করতে এখন বিরোধীদলের সবাই একসঙ্গে কাজ করবে।’
পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতা ইমরান খান টুইটারে লেখেন, ‘মানুষ সাধারণত পানামার অফশোরে অ্যাকাউন্ট খোলেন হয় বাজে পথে উপার্জিত অর্থকে লুকাতে অথবা কর ফাঁকি দিতে অথবা দুটোই করতে।’
এর আগে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে নওয়াজ শরিফ বলেন, আমি আমার জাতিকে সত্যটাই দেখাতে চাই এবং প্রত্যেক পাকিস্তানি নাগরিকেরই জানা দরকার এই অপবাদের পেছনের আসল ঘটনা।
অফশোরের লেনদেনে নওয়াজের ছেলে হাসান ও হোসাইন এবং মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ শরিফের নাম আসে। পারিবারিক এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তারা কোনো ধরনের বেআইনি কাজ করেননি। তাদের ব্যবসায় সম্পূর্ণ বৈধ এবং অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
মরিয়ম তার টুইটারে জানান, যেসব তথ্য বের হয়েছে সেখানে কোথাও অবৈধ কিছুর কথা বলা হয়নি। কয়েকটা গণমাধ্যমের ইচ্ছাকৃত আচরণের ফলে এমন গুঞ্জন আসছে।
২০১৩ সালে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নতুন করে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সমস্যার সময়েই এই পানমা পেপারস ফাঁস অনেকটা আগুনে ঘি ঢালার মতো হয়েছে নওয়াজের জন্য। ২০১৩ সাল থেকেই তার দলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ একাধিকবার আসলেও প্রতিবারই তিনি তা অস্বীকার করেন।
পানামা অফশোরের অভিযোগ তাই সংকটে ফেলতে পারে নওয়াজ শরিফকে। এর আগে ইমরান খান ২০১৪ সালে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে না করার অভিযোগে মাসব্যপী কর্মসূচি দিয়েছিলেন। তাছাড়া পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিষয়টিও নওয়াজকে ভালভাবে খেয়াল রাখতে হবে। বিদেশ নীতি ও নিরাপত্তার বিষয়ে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল রাহিল শরিফকে পাকিস্তানের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী বিবেচনা করা হয়। সূত্র: ডন।
/এমপি/








