পাকিস্তানে এক সালিশের রায় অনুযায়ী ১৬ বছরের এক কিশোরীকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে অ্যাবোটাবাদের মাকল গ্রামে এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে।
অ্যাবোটাবাদের পুলিশ জানিয়েছে, মাকল গ্রামের কাউন্সিলর পারভেজের আহ্বানে ১৫ সদস্যের জিরগা (ইসলামের বিধান অনুযায়ী স্থানীয় বিচার ব্যবস্থা) ওই কিশোরীকে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ দেয়। আম্বার নামের ওই কিশোরীর ‘অপরাধ’ ছিল, তিনি তার এক বান্ধবীকে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করার উদ্দেশে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন।
এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ও সালিশের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে এরইমধ্যে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ঘটনার শিকার ওই কিশোরীর মা-ও রয়েছেন।
গত ২৮ এপ্রিল ছয় ঘণ্টার সালিশ বৈঠক শেষে ওই কিশোরীকে তার বাড়ি থেকে একটি পরিত্যাক্ত ঘরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে একটি পিকআপ ভ্যানে রাখা হয়। পরে ভ্যানটি পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থল সংলগ্ন এলাকা থেকে ওই তরুণীর দগ্ধ মৃতদেহের সন্ধান পায়। দগ্ধ ভ্যানটির পাশে আরেকটি ভ্যান রাখা ছিল। পরে ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ মৃতদেহটি আইয়ুব মেডিকেল কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ (পিটিআই) নেতা শওকত ইউসুফজাই ডনকে বলেন, এই বর্বর রায় যারা দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেটা ঘটেছে সেটা খাইবার পাখতুনখোয়া’র সংস্কৃতি নয়। এখানে এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম ঘটেছে। সূত্র: ডন।
/এমপি/








