যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিং-এর ঘটনায় পদত্যাগ করেছেন ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের প্রধান লরেঞ্জো টান। ব্যাংকটির পক্ষ থেকেও তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার ব্যাংকটির এক বিবৃতিতে এ খবর জানানো হয়েছে।
ফিলিপাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনকোয়ারার জানিয়েছে, পদত্যাগের আগে লরেঞ্জো টান ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী ছিলেন। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার অর্থ চুরির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নিজস্ব তদন্ত চালায় আরবিসি কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকের ভবিষ্যতের স্বার্থেই তার পদত্যাগ জরুরি হয়ে পড়েছিল।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা উদ্ধারে সুইজারল্যান্ডে বৈঠক
এদিকে আরসিবিসি ব্যাংকের পদত্যাগী প্রধান নির্বাহী লরেঞ্জো টান এক বিবৃতিতে বলেছেন, অপরাধের স্বপক্ষে যুক্তি দাঁড় করানো নয়; বরং ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও সিইও হিসেবে তিনি ব্যাংকিং ইতিহাসের এ ঘটনার নৈতিক দায়িত্ব নিয়েছেন।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার রিজার্ভের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক এবং সুইফট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহাকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে। যদিও রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবারে। তবে বৈঠকের ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংক এবং সুইফট কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: বাকি আড়াইশো মিলিয়ন পেসোও ফেরত দিলেন অং
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা জানান, গভর্নর ফজলে কবির যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের প্রধান উইলিয়াম ড্যুডলেসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।
বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সংগঠন ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টের প্রধান কার্যালয় সুইজারল্যান্ডের বাসেলে। আগামী মঙ্গলবার বাসেলেই হবে দুই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বৈঠক।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে কথিত বিচারে কিশোরীকে পুড়িয়ে হত্যা
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি যায়। এর মধ্যে ২০ মিলিয়ন ডলার গ্রাহকের নাম ভুল করায় শ্রীলংকায় আটকে যায়, পরে তা ফেরত আনা হয়। বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলার যায় ফিলিপাইনের একটি বেসরকারি ব্যাংকে। সেখান থেকে ক্যাসিনো হয়ে হংকংয়ে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয় ওই অর্থ। সূত্র: দ্য ইনকোয়ারার।
/এমপি/








