হ্যাকারদের যে তিনটি গ্রুপ বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত, তারা এখনও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্কে ঘোরাফেরা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তদন্ত সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইনফরমেটিক্স এবং ফায়ার আই ইঙ্ক প্রকাশিত ফরেনসিক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। তারা আশঙ্কা করছে, বাংলাদেশ ব্যাংকে আবারও সাইবার ডাকাতি হতে পারে।
তদন্তকারীরা ১১ মার্চ ব্লুমবার্গ বিজনেসকে জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার রিজার্ভ চুরির ঘটনায় হ্যাকারদের তিনটি দল জড়িত। এদের মধ্যে পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের দুটি গ্রুপ রয়েছে। তবে তাদের তৃতীয় গ্রুপটি কোন দেশের তা এখনও শনাক্ত করা যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগপ্রাপ্ত তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান ফায়ারআই জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য থেকে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এই চুরির ঘটনায় জড়িত দুটি দেশের হ্যাকাররা। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে হাতের ছাপ পরীক্ষা করে দেখা গেছে পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা এই চুরির সঙ্গে জড়িত। তবে তৃতীয় দলটি কে বা কারা তা এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
এবার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিয়োগ করা তদন্ত কমিটির (ফায়ার আই) প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্ক এখনও নিরাপদ নয়। ব্যাংকের গভর্নর ও বোর্ডের এই বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই তিন গ্রুপের মধ্যে গ্রুপ জিরো নামে উল্লেখিত হ্যাকারদের একটি দল এখনও নেটওয়ার্কের ভেতরে রয়েছে। সেই দলটি তদন্তও পর্যবেক্ষণ করছে এবং আবারও হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকি দুইটি দলও নেটওয়ার্কের মধ্যে রয়েছে। ওই নেটওয়ার্কটি সুইফট ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজেকশন সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত। ওই দুই দলের একটি তথ্য চুরির কাজ করছে। তবে তা ‘তেমন বিপজ্জনক নয়’ বলে উল্লেখ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।
চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের কাজ ব্যাহত হতে পারে আশঙ্কায় প্রতিবেদনের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি তদন্ত সূত্র। এই চুরির তদন্তের বাকি অংশ সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে তারা।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’ এই মাসের শুরুতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এর চেয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি ওই দলগুলো সম্পর্কে। সুইফটের এক মুখপাত্র এ সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সুইফট আরও একটি কমার্শিয়াল ব্যাংকে এমন ম্যালওয়্যার আক্রমণ হতে পারে বলে সাবধানবাণী দেয়।
তদন্তকারীরা জানান, প্রাথমিকভাবে যা বোঝা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে গ্রুপ জিরোই এই সাইবার আক্রমণটি ঘটিয়েছে। ফায়ারআই ইঙ্কের এক মুখপাত্র জানান, চলমান তদন্ত সম্পর্কে কোন মন্তব্য করা হবে না। আর ওয়ার্ল্ড ইনফরম্যাট্রিক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমর্থ হয়নি রয়টার্স।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি যায়। এর মধ্যে ২০ মিলিয়ন ডলার গ্রাহকের নাম ভুল করায় শ্রীলংকায় আটকে যায়, পরে তা ফেরত আনা হয়। বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলার যায় ফিলিপাইনের একটি বেসরকারি ব্যাংকে। সেখান থেকে ক্যাসিনো হয়ে হংকংয়ে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয় ওই অর্থ।সূত্র রয়টার্স
/ইউআর/বিএ/








