বাংলাদেশ-ভারত পারমাণবিক চুক্তির একাংশের ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে। রবিবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে নিরাপত্তা-জ্বালানি-কানেকটিভিটি ইস্যুতে দুই দেশের সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভারতীয় ওই সংবাদমাধ্যম বলছে, এই সমঝোতা দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিশেষত্বের প্রতীক।
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে তিনটি প্যাকেজে গত তিন মাস আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং ভারতের পক্ষে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলোচনায় প্রতিনিধিত্ব করে। সেই বিশাল পারমাণবিক প্যাকেজের একাংশ হলো নিরাপত্তা-জ্বালানি-কানেকটিভিটি। এই তিন বিষয় নিয়েই চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। ভারত-বাংলাদেশ ঠিক কবে এ সমঝোতায় উপনীত হয়েছে সে ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। তবে আংশিক এই সমঝোতাকে দুদেশের মধ্যকার ব্যাপক পারস্পরিক সহযোগিতার নমুনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ভারতের উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র দুদেশের মধ্যকার সম্পর্কের কথা জানাতে গিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিকভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিকভাবেও আমরা পরস্পরের অংশীদার।’
আরও পড়ুন: শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে রাজি ত্রিপুরা
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, বিএইচইএল, রিলায়েন্স, শাপুরজি-পালনজি এবং আদানি নামে চারটি ভারতীয় কোম্পানি বাংলাদেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্রে অংশ নিয়েছে। পারমাণবিক চুক্তির আওতায় রাশিয়ার সহযোগিতায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেবে ভারত।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরা হয়। বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পালাটানা থেকে বাংলাদেশে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশন লাইন উদ্বোধন করার পর ভারত এটিকে ৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি ভারতের তেলবিষয়ক মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ঢাকা সফরকালে পশ্চিম বঙ্গ থেকে ঢাকায় ডিজেল পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
এছাড়া বাংলাদেশ হয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহ করতে চায় ভারত। এ নিয়ে এরইমধ্যে বাংলাদেশকে চিঠিও দিয়েছে দেশটি। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর তা বাংলাদেশ হয়ে অন্য রাজ্যে সরবরাহ করতে চায় ভারত। বিনিময়ে ট্রান্সমিশন লাইন থেকে বাংলাদেশও বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবে বলেও জানানো হয়।
গত সপ্তাহে জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের সময় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তুরস্ক নিজামীর ফাঁসির কঠোর সমালোচনা করলেও ভারত বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয় বলে উল্লেখ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগের পরিকল্পনা অনেকটা সহজ হয়ে গেছে। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান যে রেল সংযোগগুলো বন্ধ করেছিল সে রেলসংযোগ দুই দেশই ফের চালু করতে চাচ্ছে। এরমধ্যে আখাউড়া-আগরতলা, খুলনা-দর্শনা, পার্বতীপুর-কাউনিয়া রেলসংযোগ তালিকার শীর্ষে রয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ফেনী নদীতে একটি সেতু নির্মাণেরও কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পানিচুক্তি বিশেষ করে তিস্তা ও ফেনী নদীর পানি বন্টনের তাকিয়ে রয়েছে, তা দিতে ভারত অঙ্গীকারাবদ্ধ। ক্রমবিকাশমান সম্পর্কের মধ্যে দুই দেশ পরস্পরকে কিছু ছাড় দিতে ইচ্ছুক বলে মনে করছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
/এফইউ/বিএ/








