আন্তর্জাতিক দাতাদের কাছ থেকে সাড়ে ১১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পেতে যাচ্ছে গ্রিস। ইউরোপের মুদ্রায় এর পরিমাণ ১০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো। বুধবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বিষয়টি নিয়ে দাতাদের সঙ্গে আলোচনার পর এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে উপনীত হতে সম্মত হয় গ্রিস। অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত গ্রিসকে এ ঋণ সহায়তা প্রদানের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন ইউরোজেনের অর্থমন্ত্রীরাও। এতে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধি এবং সুদের হারের লাগাম টেনে ধরার কথাও বলা হয়েছে। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর দিয়েছে।
আগামী জুলাই থেকে গ্রিসের কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের কথা ছিল। তবে এখন এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী ২০১৮ সাল থেকে ঋণ পরিশোধ করবে গ্রিস।
গ্রিস সরকার নিজ দেশের বেইল আউট পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছে। দেশটি বলছে, গ্রিসের কাছ থেকে ঋণদাতাদের পাওনা অর্থের পরিমাণ ৩০০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি। এটা দেশটির মোট বার্ষিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে ১৮০ শতাংশ বেশি।
গ্রিসকে ঋণ সহায়তা প্রদানের বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ইউরোজোনের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ)।
আইএমএফ-এর মতে, গ্রিসের জন্য এই মুহূর্তে ঋণ সহায়তা বেশ প্রয়োজনীয়। তবে এর বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ জার্মানি। তবে শেষ পর্যন্ত ঋণ চুক্তির ব্যাপারে সমঝোতা হওয়ায় এটি গ্রিসের বেইল আউট পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহায়ক হবে বলে মনে করছে আইএমএফ। তবে এ অর্থ প্রাপ্তির জন্য গ্রিসের অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন ইউরোপের ১৯ মন্ত্রী।
এদিকে গ্রিসের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বৃদ্ধিকে বিশাল সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইউরোগ্রুপের প্রেসিডেন্ট জেরোয়েন ডিসেলব্লোয়েম।
এর আগে নির্ধারিত সময়ে আইএমএফ-এর ১৬০ কোটি ইউরো ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় গতবছর ঋণখেলাপি রাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত হয় ইউরোপের এই দেশটি। গ্রিস হলো উন্নত বিশ্বের রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত প্রথম কোনও দেশ, যেটি আইএমএফের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। সূত্র: বিবিসি।
/এমপি/








