ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর দখলে থাকা ফালুজা পুনরুদ্ধারে ব্যাপক ও চূড়ান্ত অভিযান শুরু করার কথা জানিয়েছে ইরাকি বাহিনী। সোমবার (৩০ মে) সকাল থেকে শহরটিতে তিন দিক থেকে হামলা শুরু করেছে তারা। শহরটিতে ভয়াবহ সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
ইরাকি বাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়া লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদেলওয়াহাব আল-সাদি বলেন, ‘মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সহায়তায় ইরাকি বাহিনী ফালুজায় প্রবেশ করেছে।’ তিনি জানান, স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে ইরাকি বাহিনী তিন দিক থেকে ফালুজায় আক্রমণ শুরু করেছে।
আবদেলওয়াহাব বলেন, ‘ইরাকি বাহিনী আইএস-এর প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়েছে।’ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইরাকের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী বিশেষ বাহিনীর এক মুখপাত্রের বরাতে বলা হয়, ফালুজা শহরটিতে ভোর থেকে তীব্র সংঘর্ষ এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ইরাকি বাহিনী ফালুজা পুনরুদ্ধার করতে পারলে আইএস-এর দখলে থাকা আরেক শহর মসুলেও তীব্র হামলা চালাতে পারে ইরাকি বাহিনী।
সোমবার (২৩ মে) থেকে বাগদাদের ৪০ মাইল দূরবর্তী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর দখলে থাকা ফালুজা পুনরুদ্ধারে ইরাকের সেনাবাহিনী অগ্রসর হয়। সেদিনই ইরাকি সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে ফালুজার অধিবাসীদের শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ করে। আর যারা শহর ছাড়তে পারবেন না, তাদের বাড়ির ওপর সাদা পতাকা লাগিয়ে রাখার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি, ইরাকের বিমানবাহিনী ফালুজায় বিমান থেকে লিফলেটও বিতরণ করে। তাতে শহরের বাসিন্দাদের সেনাবাহিনীর তৈরি করা ‘নিরাপদ গলি’ দিয়ে শহরের বাইরে চলে আসার আহ্বান জানানো হয়।
দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ফালুজায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আটকা পড়েছেন। তারা ইরাকি সেনাবাহিনী, শিয়া মিলিশিয়া, বিভিন্ন গোষ্ঠীগত সশস্ত্র বাহিনী এবং আইএস-এর মধ্যে ক্রসফায়ারে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবার তাদের আইএস মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আলজাজিরা।
/এসএ/








