নিজ দেশে মার্কিন ড্রোন হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ। বুধবার এক অনানুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে তিনি পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে অংশ নেন। ওই অধিবেশন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসাইন ভাষণ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল রাহিল শরিফ বলেন, মার্কিন ড্রোন হামলা পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। একইসঙ্গে এটি দুঃখজনকও বটে। তাই এ হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
যে কোনও মূল্যে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের দমনে দেশজুড়ে ‘জার্ব-আই-আযব’ নামে সেনা অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পরাজিত হবো না। উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে জঙ্গিদের পুনরায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
এদিকে এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
২১ মে ২০১৬ শনিবার আফগান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি গাড়িতে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন আফগানিস্তানের তালেবান প্রধান মোল্লা আখতার মনসুর। এ ঘটনায় বিনা অনুমতিতে নিজ ভূখণ্ডে ড্রোন হামলা চালানোয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে পাকিস্তান। তবে ড্রোন হামলা নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়াকে গুরুত্ব দিতে রাজি নয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের হত্যা করতে পাকিস্তানে ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকবে।
ওবামা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে যারা সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে বা পরিকল্পনা করছে, সেসব চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই লক্ষ্য নিয়ে আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করে যাব। কিন্তু বিভিন্ন দেশে হুমকি দেওয়া সন্ত্রাসীদের কোনও স্বর্গরাজ্য করতে দেব না।
ওই ড্রোন হামলাকে আফগানিস্তানে উন্নয়ন ও শান্তির আনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফল হিসেবেও উল্লেখ করেছেন ওবামা। তিনি জানান, মোল্লা মানসুর আফগান সরকারের নেওয়া শান্তি আলোচনাকে বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন। তালেবানদের উচিত দীর্ঘদিনের সংঘাত ভুলে শান্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আফগানিস্তানের পুনর্গঠন কাজে অংশীদার হওয়া। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসবে।
বারাক ওবামা বলেন, আমরা এমন একটি সংগঠনের নেতাকে সরিয়ে দিয়েছি যা মার্কিন ও জোট বাহিনীর সেনাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, আফগানিস্তানের নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে এবং আল-কায়েদার মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে তারা জড়িত হয়েছে।
ওবামা জানান, ২০১৫ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের সম্মুখ যুদ্ধ থেকে প্রত্যাহার করলেও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের কোনও পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, আমরা তালেবান ও অন্যদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই যে, আমরা জনগণকে নিরাপত্তা দেব এবং এই বার্তাটিই দেওয়া হয়েছে।
তালেবানের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি শান্তির আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে ওবামা বলেছেন, আলোচনাই একমাত্র শান্তির পথ। সূত্র: ডন।
/এমপি/








