ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়া আবারও শুরু করতে ফ্রান্সের নেতৃত্বে শুক্রবার প্যারিসে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলনে ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের মধ্যকার শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থাকারী জোট মিডল ইস্ট কোয়ারটেট, জাতিসংঘ, আরব লিগ এবং বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা সম্মেলনে অংশ নেবেন। তবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের কোনও প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না। প্রত্যক্ষ আলোচনার ডাক দিয়ে বৈঠক বর্জন করেছে ইসরায়েল। তবে বৈঠকের সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয় ‘প্রস্তাবিত সৌদি শান্তি উদ্যোগ’কে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে তারা।
২০১৪ সালের এপ্রিলে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার বিভেদের জেরে সে সময়কার শান্তি আলোচনা ভণ্ডুল হয়ে যায়। কারাবন্দিদের মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে রাজি না হওয়ার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। আর ইসরায়েল বলেছে, ফিলিস্তিনের ঐক্য সরকারের মধ্যে হামাসকে অন্তর্ভূক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তেল আবিবের পক্ষে আলোচনা চালানো সম্ভব হচ্ছিল না।
কূটনীতিকদের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, ‘শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য এতদিন বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে যে সকল অর্থনৈতিক উদ্যোগ ও অন্য অঙ্গীকার করা হয়েছিল সেগুলো শুক্রবারের বৈঠকে একত্রিত করা হবে।’
ফরাসি কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে দেশটির বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আলোচনায় ২০০২ সালের সৌদি শান্তি উদ্যোগকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। ওই শান্তি উদ্যোগে ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলিদের দখলে থাকা অঞ্চলগুলোকে সমন্বিত করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিনিময়ে আরব দেশগুলোতে রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে বলা হয়।
সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন সৌদি পরিকল্পনায় ‘ইতিবাচক উপাদান’ রয়েছে। অবশ্য ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডোরে গোল্ড ১৯১৬ সালের সাইকস-পিকট চুক্তির জন্য যেভাবে ফরাসি আলোচনা হয়েছিল সে স্টাইলটি পছন্দ করছেন। তার মতে, সরাসরি আলোচনাই সংকটের সমাধান করতে পারে।
বুধবার নেতানিয়াহুও পূর্বশর্ত ছাড়াই দুপক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবারের প্যারিস সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও অংশ নেবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন কোনও প্রস্তাব দেওয়া হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
১৯৯০ এর দশকের শুরু থেকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় শান্তি আলোচনা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা চায় পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে এর রাজধানী বানাতে। ১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরায়েল। অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবেচ স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ১শরও বেশি বসতি স্থাপন করেছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এ বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হলেও ইসরায়েল তা মানতে চায় না। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/








