বিদ্যুতের পর এবার বাংলাদেশ ও ভারতের তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ ও ভারত। আলোচনার দিনক্ষণও নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামি ১২ জুনের ওই আলোচনা ফলপ্রসূ হলে দুই দেশই উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ওই দিন দুই দেশের মধ্যে সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের নেটওয়ার্ক সংযোগের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হবে।
শুক্রবার ভারতের তেলমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, আগামি ১২ জুন বাংলাদেশের জ্বালানি সচিব ভারতে যাবেন। সেখানে ভারতীয় পেট্রোলিয়াম সচিব কেডি ত্রিপাঠির সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। ভারতীয় তেলমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই বৈঠকের প্রস্তাবনা তৈরী করেছে ভারত। গ্যাস নেটওয়ার্কে দুই দেশের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হলে উভয় দেশই উপকৃত হবে।’
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের জুনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার ব্যাপারে আলোচনা হয়। আর গত এপ্রিলে ভারতীয় তেলমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনায় মোদির সফরের সময়কার সমঝোতার প্রসঙ্গ টেনে ভারতীয় জ্বালানিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম-ত্রিপুরা গ্যাস লাইন চালুর প্রস্তাব করেন।
ধর্মেন্দ্রর প্রস্তাব অনুযায়ী, ওই গ্যাস লাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশে আসা ভারতের প্রাকৃতিক গ্যাসের একাংশ দেশটির উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সরবরাহের প্রস্তাব করা হয়। পাশাপাশি আসামের লুমানিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুরে ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব করেন ভারতীয় জ্বালানি মন্ত্রী। এ ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে তখন এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
আগামি ১২ জুনের আলোচনা, সেই সমঝোতারই ধারাবাহিকতা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, দুই দেশের মধ্যে গ্যাস সংযোগ স্থাপিত হলে ভারত তাদের উত্তরপূর্বাঞ্চলে সহজে গ্যাস সরবরাহ করতে পারবে। আর বাংলাদেশ বাড়াতে সক্ষম হবে তার স্বচ্ছ জ্বালানি তেল সরবরাহের নেটওয়ার্ক।
গত ১৮ এপ্রিল (সোমবার) দু’দেশের প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে ঢাকায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও ভারতীয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির মধ্যে এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপনে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতা হয় ডিজেল সরবরাহের ব্যাপারেও। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
/বিএ/








