ভারতের দিল্লিতে দরিদ্রদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার শর্ত না মেনে শীর্ষ ৫টি বেসরকারি হাসপাতাল যে মুনাফা করেছে তাকে অন্যায্য আখ্যা দিয়েছে কেজরিওয়াল সরকার। হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে ৬শ কোটি রুপিরও বেশি জরিমানা করা হয়েছে।
দিল্লি সরকারের দেওয়া আদেশে বলা হয়, দরিদ্রদের বিনামূল্যে চিকিৎসার শর্ত দিয়ে ওই ৫টি হাসপাতালকে কম মূল্যে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালগুলো শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়েছে। হাসপাতালগুলোর মধ্যে রয়েছে- ফর্টিস এসকর্টস হার্ট ইন্সটিটিউট, ম্যাক্স সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল, শান্তি মুকন্দ হাসপাতাল, ধর্মশিলা ক্যান্সার হাসপাতাল এবং পুষ্পবতী সিংহানিয়া রিসার্চ ইন্সটিটিউট।
দিল্লি সরকারের অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরিচালক হেম প্রকাশ বলেন, ‘এ হাসপাতালগুলো শর্ত মানেনি তাই এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ জরিমানা করার আগে হাসপাতালগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিসও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরিমানা প্রদানের জন্য হাসপাতালগুলোকে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। আর এ সময়ের মধ্যে অর্থ জমা দেওয়া না হলে হাসপাতালগুলোর অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
অন্যান্য হাসপাতালের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি হেম প্রকাশ।
উল্লেখ্য, দিল্লির ৪৩টি হাসপাতালকে এ ধরনের শর্তসাপেক্ষে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। শর্তে বলা হয়েছিল, হাসপাতালগুলোর ইন-পেশেন্ট বিভাগের মোট সেবা সক্ষমতার ১০ শতাংশ এবং আউট পেশেন্ট বিভাগের সেবা সক্ষমতার ২৫ শতাংশ দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে দিতে।
হাইকোর্টের নিয়োগকৃত মনিটরিং কমিটির সদস্য এবং আইনজীবী অশোক আগারওয়াল জানান, ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি সময়ে জমিগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। দরিদ্রদের বিনামূল্যে চিকিৎসার বিধি বাস্তবায়নের জন্য করা একটি জনস্বার্থ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া চূড়ান্ত আদেশের পর থেকে ওই জরিমানা হিসেব করা হয়েছে। অর্থাৎ ২০০৭ সালের ২২ মার্চ থেকে এ হিসেব করা হয়েছে। সূত্র: টাইম অব ইন্ডিয়া
/এফইউ/








