পাকিস্তানে ‘অনার কিলিং’ এর ধারাবাহিকতায় এবারের বলি একজন অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের অমতে বিয়ে করায় নিজেরই মা-বাবা-ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, কোনও নারী পরিবারের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে, এমন অভিযোগ তুলে পরিবারের সদস্যরাই যখন সেই নারীকে হত্যা করে তখন তা অনার কিলিং নামে পরিচিত। পাকিস্তানে এই ধারার হত্যাকাণ্ড প্রায়ই ঘটছে।
পাকিস্তান পুলিশের একজন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আরশাদ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, নিহত তরুণী মুকাদ্দেস বিবি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা। ৩ বছর আগে পরিবারের অমতে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তৌফিক আহমেদ নামের এক ব্যক্তিকে। বিবির পরিবার একে লজ্জা বলে বিবেচনা করে। তারা এ ঘটনা ভুলতে পারেননি কখনও।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এর খবরে বলা হয়েছে, ওই অন্তঃসত্ত্বা তরুণী মৃত্যুর সময় দ্বিতীয়বারের মত ৭ মাসের গর্ভবতী ছিলেন। প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তার পরিবার মনে করেছে, এতে তাদের সম্মানহানি হয়েছে। প্রতিশোধ নিতে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিয়ের পরপর বিবির সাথে তার পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু পরে তার মা ও ভাই মিলে যোগাযোগের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে সেই তরুণী-মা যখন ক্লিনিকে চেক-আপের জন্য যান, তখন সেখানে হাজির হয়ে ফুঁসলিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান তার মা ও ভাই।
স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের প্রধান গোহার আব্বাস বলেছেন, যখন বিবি তার মায়ের বাড়িতে পৌঁছান, তখন তার বাবা-মা-ভাই মিলে ধরে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে তাকে। বিবির ১০ মাস বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। বিবিকে হত্যা করে তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়। তাদেরকে খোঁজা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে তথাকথিত ‘অনার কিলিং’ বা সম্মানহানির ঘটনায় হত্যাকাণ্ড প্রায়ই ঘটছে। গত সপ্তাহে লাহোরে জিনাত বিবি নামের ১৬ বছর বয়সী এক তরুণী প্রেম করে বিয়ে করায় তাকে হত্যা করে তার মা। এর পরপর লাহোরে আরেক দম্পতি খুন হন বাড়ির অমতে বিয়ে করায়। সূত্র: ডন
/বিএ/








