অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের সম্মেলনের নির্ধারিত তারিখ ১৯ জুন। এর নেপথ্যে রয়েছে ৫৫ বছরের প্রস্তুতি আর সহস্রাব্দেরও বেশি সময়ের অপেক্ষা। ৭৮৭ সালের পর, এবার প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে রুশ অথোডক্স চার্চ। মতৈক্য না হওয়ায় অ্যান্টিওক, বুলগেরিয়া ও জর্জিয়ার চার্চগুলোও সম্মেলনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে রেখেছে আগেই।
এবার রাশিয়ার অস্বীকৃতির মধ্য দিয়ে তাই ওই সম্মেলন অচলাবস্থায় পড়েছে। তবে আয়োজকদের তরফ থেকে সবাইকে সম্মেলনে সামিল থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসীদের প্রধানত ৩টি ধারা, রোম্যান ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট এবং অর্থোডক্স। এদের মধ্যে অর্থোডক্স ধারা বিকশিত হয়েছে পশ্চিমা খ্রিস্টতন্ত্রের তথা বর্তমান রোমান ক্যাথলিক ভাবধারার বিপরীতে। মূলত ভ্যাটিকানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বসংঘাতের প্রেক্ষাপটেই এই বিভাজন তৈরি হয়।
অর্থোডক্স একটি গ্রীক শব্দ যার মানে যথার্থ বিশ্বাস। অর্থোডক্স খ্রিস্টানরা সংখ্যায় ৩শ মিলিয়ন, তাদের চার্চ রয়েছে ১৪টি দেশে। চার্চগুলো স্বশাসিত ও স্বাধীন। তবে অর্থোডক্সদের চার্চগুলো পরস্পরের সঙ্গে ধর্মতত্ত্ব-ঐতিহ্য ও উপাসনার প্রশ্নে দার্শনিকভাবে একীভূত। তারা নিজেদের খ্রিস্ট-বিশ্বাসের যথাযথ ধারা বলে মনে করেন। ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্টদের সঙ্গে তাদের ধমীয় রীতিনীতি ও ভাবধারাতেও পার্থক্য রয়েছে। আর এবার সম্মেলনকে ঘিরে বিভিন্ন চার্চের অস্বীকৃতির মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, খোদ নিজেদের মধ্যেই বিভাজিত তারা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রিট দ্বীপে রবিবার (১৯ জুন) শুরু হতে যাওয়া ওই সম্মেলনের জন্য ৫৫ বছর ধরে প্রস্তুতি চলছিল। সম্মেলনে যে ১৪টি চার্চকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল সেগুলোর অনুসারীর সংখ্যা ৩০ কোটি। কেবল রাশিয়ান অর্থোডক্সের অনুসারীর সংখ্যাই ১০ কোটি। তবে ওই সম্মেলনে অংশ নিতে শেষ মুহূর্তের আহ্বান নাকচ করে রুশ কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ান প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল বলেন, সব চার্চের অংশগ্রহণ না থাকায় ক্রিট সম্মেলনকে প্রস্তুতিমূলক অধিবেশন বলেই মনে করছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে সম্মেলনে রাশিয়ান চার্চের অস্বীকৃতির মধ্য দিয়ে মূলত অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিভাজন ফুটে উঠেছে। তাছাড়া ইস্তাম্বুলভিত্তিক ইকুমেনিক্যাল কন্সট্যানটিনোপলের প্যাট্রিয়ার্ক বারথোলোমিউর আর রাশিয়ার মধ্যকার ক্ষমতার লড়াইও এক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছেন তারা। কেননা, বারথোলোমিউর এ সম্মেলনের চালিকা শক্তি। মস্কোর আশঙ্কা, বারথোলোমিউ অর্থোডক্স চার্চের ইউক্রেনীয় শাখাকে সমর্থন দিয়ে দিতে পারেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও একে শান্ত ধারার ধর্মীয় যুদ্ধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/বিএ/








