গঙ্গায় সাঁতার কাটতে নামবেন বন্ধুরা। তার আগে শিবম নামে ওই বন্ধুদের একজন ‘সেলফি’ তুলছিলেন। উত্তরপ্রদেশের কানপুর শহরে সেই সময়ে খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। ছবি তুলতে গিয়ে পা পিছলিয়ে গঙ্গায় পড়ে যান শিবম। সেটা দেখে জলে ঝাঁপ দেন একই সঙ্গে গঙ্গায় সাঁতার কাটতে আসা মাকসুদ। তলিয়ে যেতে থাকেন তারা। এরপর ক্রমান্বয়ে আরও ৫ বন্ধু ঝাঁপ দেন নদীতে। কিন্তু কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রায় ২ ঘণ্টা পর উদ্ধার হয় ৭ মরদেহ।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া খবরটি নিশ্চিত করেছে।
কানপুরের সিনিয়র পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট শলভ মাথুর সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বৃষ্টির পাশাপাশি তখন গঙ্গায় ভীষণ স্রোত ছিল। শিবম আর মাকসুদ তলিয়ে যেতে থাকেন। বন্ধুদের বাঁচাতে একে একে জলে ঝাঁপ দেন আরও পাঁচ বন্ধু।’ কিন্তু স্রোতের সঙ্গে খুব বেশি সময় লড়াই চালাতে পারেননি কেউই। ডুবুরি নামাতে হয় কিছুক্ষণের মধ্যেই।
প্রায় দুই ঘণ্টা পরে সাতজনেরই দেহ উদ্ধার করেন ডুবুরীরা। হাসপাতালে নিয়ে গেলে সবাইকেই মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
এদের মধ্যে মাকসুদের বয়স ৩০ এর ওপরে কিন্তু বাকিরা সকলেই ১৯ থেকে ২১ বছর বয়সের।
উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন পোস্টের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০১৫ সালে গোটা বিশ্বের মধ্যে ভারতে সবচেয়ে বেশি মানুষ সেলফি তুলতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট ২০১৫ সালে বিশ্বের মোট ২৭ জনের সেলফি তুলতে গিয়ে প্রাণ হারানোর কথা জানিয়েছে। তাদের সমীক্ষা মতে, এদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মৃত্যু ঘটেছে ভারতে।
এরপর ‘সেলফি’ তোলার হিড়িক আটকাতে মুম্বাই পুলিশ শহরের ১৬ টি জায়গাকে ‘নো সেলফি জোন’ বলে চিহ্নিত করে, যেখানে সেলফি তোলা নিষিদ্ধ। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
/বিএ/








