ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে তুরস্কেও গণভোট হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। দীর্ঘদিন ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) তুরস্কের সদস্যপদের বিষয়টি ঝুলে থাকার প্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। আঙ্কারার ব্যাপারে ইইউ’র মনোভাবেরও কঠোর সমালোচনা করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বুধবার ইস্তানবুলে এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, আমরা ব্রিটেনের মতো জনগণের ওপর বিষয়টি ছেড়ে দিতে পারি। ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আমরা আলোচনা অব্যাহত রাখবো না এখানেই ইতি টানবো তা গণভোটের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে জানতে পারি। এক্ষেত্রে জনগণ যদি বলে আলোচনা ‘অব্যাহত থাকুক’ বলে তাহলে আমরা তা চালিয়ে যাব।
রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্য হিসেবে আমাদের মেনে নিতে চায় না। আমরা এটা জানতাম। কিন্তু আমরা আমাদের আন্তরিকতা দেখানোর চেষ্টা করেছি।
এরদোয়ান বলেন, তুরস্ককে ১৯৬৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। দীর্ঘ ৫৩ বছর পার হলেও তা এখনো হয়নি।
এদিকে, ২৮ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকা না-থাকা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ২৩ জুন এ বিষয়ে দেশটিতে গণভোট শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। মূলত এ গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা বা না থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন যুক্তরাজ্যের ভোটাররা। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল নাগাদ গণভোটের ফল জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক এই গণভোটে দেশটির চার প্রদেশ ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি স্পেন উপকূলের অদূরের ব্রিটিশ শাসিত ক্ষুদ্র ভূখণ্ড জিব্রাল্টারের অধিবাসীরাও তাদের রায় দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ।
গণভোটের ব্যালট পেপারে ভোটারদের প্রতি প্রশ্ন রাখা হয়েছে, ‘যুক্তরাজ্যের ইইউর সদস্য হিসেবে থাকা উচিত, নাকি ইইউ ত্যাগ করা উচিত?’ প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে যে পক্ষ অর্ধেকের বেশি ভোট পাবে, সেই পক্ষ জয়ী বলে বিবেচিত হবে। সূত্র: রয়টার্স, আরটি।
/এমপি/








