হায়দরাবাদের বেশ কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন ১৩ জঙ্গিকে আটক করেছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী দল (আইএনএ)। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো খবরটি নিশ্চিত করেছে। ইন্ডিয়ান একসপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, আটককৃত ১৩ জনের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার দেখানো হতে পারে। এদিকে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দ দাবি করেছে, আইএসের সরাসরি নির্দেশে কাজ করতো আটককৃতরা।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ভারতে আইএসের কয়েকটি শাখার জঙ্গিরা লুকিয়ে আছে—এমন খবরের ভিত্তিতে আইএনএর গোয়েন্দারা তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। অভিযানের ধারাবাহিকতায় বুধবার ভোরে ৫টার দিকে ১৩ জনকে আটক করা হয়। উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক এবং নগদ ১৫ লক্ষ টাকা।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলার পরিকল্পনায় জড়িত সন্দেগে ঐ ১৩ জনের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার দেখানো হতে পারে। বাকীদের কোনও মুখ্য ভূমিকা পালনের প্রমাণ না মেলায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।
তবে আইএনএ-এর দাবির বরাত দিয়ে কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দ জানায়, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আইএসের যোগাযোগ রয়েছে। তারা হায়দারাবাদের বিভিন্ন জায়গায় হামলার ছক কষছিলেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই এ অভিযান চালানো হয়। তাদের প্রাথমিক জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগেুলো জানায়, ভারতের নানা প্রান্তে নাশকতা ঘটানোর উদ্দেশ্যে হায়দারাবাদের এই ঘাঁটিতে অস্ত্র, গোলা-বারুদ মজুত করা হচ্ছিল।
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, আরও কোথায় জঙ্গি ঘাঁটি রয়েছে, আটক সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তার হদিশ জানার চেষ্টা চলছে।
আইএনএ সূত্রের বরাত দিয়ে এবিপি আনন্দ আরও জানায়, সিরিয়া থেকে আইএস নেতারা আটক ব্যক্তিদের সরাসরি নির্দেশ দিতেন। আইএসের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি সেখান থেকে অর্থের জোগান দেওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।
এবিপি আনন্দ জানিয়েছে, ধৃতদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। গোয়েন্দা সূত্র ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে জানিয়েছে, আটককৃত ১১ জনই তরুণ। সিরিয়ার আইএসের মূল নেত্বত্বের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল এবং সেখান থেকেই অর্থের যোগান পাচ্ছিলেন তারা।
আটককৃতদের জেরা করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে এনআইএ। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এবিপি আনন্দ
/বিএ/








