সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনারত মেয়ে বেড়াতে এসেছে। ছুটি শেষে আবারও ফিরে যেতে হবে। সবাই মিলে তাই বাড়িতে কয়েকটা দিন কাটানোর পরিকল্পনা করছিলেন তার বাংলাদেশে ব্যবসারত বাবা সঞ্জিব জৈন। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ভারতের উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। কিন্তু শুক্রবার (১ জুলাই) গুলশানের রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার পর এক ঝটকায় শেষ হয়ে গেল সব কিছু। সঞ্জীব বুঝে গেলেন আর কোনওদিন ফিরবে না মেয়েটা। ডাকবে না আর বাবা বলে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। শনিবার সকালে রেস্টুরেন্টটিতে কমান্ডো অভিযান চালানো হয়। সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্সের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাঈম আশফাক চৌধুরী প্রেস ব্রিফিয়ে জানান, রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’-এর সময় ২০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৭ জন বিদেশি ও ৩ জন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানানো হয়। এছাড়া জীবিত উদ্ধার হন ১৩ জন। নিহত ১৭ বিদেশির একজন ভারতীয় নাগরিক তারিশি জৈন।
জিম্মি অবস্থা চলার সময় তারিশি ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশে বসবাসরত তার বাবাকে ফোন করেছিলেন। বাংলাদেশেই ছিলেন তার বাবা। রাতে মেয়ের ফোন পেয়েই তড়িঘড়ি করে আর্টিজানের সামনে আসেন সঞ্জিব। প্রবল উৎকণ্ঠায় কেটেছিল সারা রাত।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দুই বাংলাদেশি বন্ধু ফারাজ হোসেন ও অবিন্তা কবীরের সঙ্গে ওই রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন ১৯ বছরের তারিশি। সেখান থেকেই তিনি ফোন করেছিলেন বাবাকে। বলেছিলেন, ‘রেস্তোরাঁয় জঙ্গিরা ঢুকে পড়েছে। আমার খুব ভয় করছে। জানি না বেঁচে ফিরতে পারব কিনা। ওরা একে একে সবাইকে মেরে ফেলছে’।
আর্টিজানের সামনে চরম আতঙ্ক ও উৎকন্ঠায় পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে ছিলেন সঞ্জিব। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। শনিবার সকাল ছয়টায় তারিশির ফোন বন্ধ হয়ে যায়। ফোনে কল রিসিভ হলেও কেউ কথা বলেনি।
তারিশি জিম্মি রয়েছেন শুনে সারা রাত চোখের পাতা এক করতে পারেননি উত্তরপ্রদেশে বসবাসরত তাদের পরিবারের সদস্যরাও। সারা রাত টিভির পর্দায় নজর রাখছিলেন তারা। কাকা রাকেশ জৈন জানান, ক্যাফের ভেতরে থেকে তারিশি ফোনে বলেছিলেন, ‘আমি বন্ধুদের সঙ্গে টয়লেটে লুকিয়ে রয়েছি। আমার মনে হচ্ছে ওরা আমাদের এক এক করে মেরে ফেলবে’। সূত্র: এবিপি আনন্দ, টাইমস অব ইন্ডিয়া।
/এফইউ/বিএ/








