ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের উত্তরসূরি হওয়ার পথে এগিয়ে আছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে। মঙ্গলবার ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচনের প্রথম পর্বের ভোটাভুটিতে নিজ দলের ১৬৫ জন এমপির ভোট পেয়ে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকার পক্ষে (রিমেইন) প্রচার চালানো থেরেসা মে প্রতিদ্বন্দ্বী বাকি চার প্রার্থীর চেয়ে বেশ বড় ব্যবধানেই এগিয়ে আছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যান্ড্রিয়া লিডসন পেয়েছেন ৬৬ ভোট। অ্যান্ড্রিয়া ইইউ ছাড়ার পক্ষের প্রচারে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ইইউ–বিরোধী শিবিরের আরেক অন্যতম নেতা বিচারমন্ত্রী মাইকেল গোভ ৪৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।
বাকি দুই প্রার্থীর মধ্যে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্স সর্বনিম্ন ১৬ ভোট পেয়ে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়েন। আরেক প্রার্থী কর্ম ও পেনশন–বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ক্র্যাব পেয়েছেন ৩৪ ভোট। চতুর্থ স্থান অধিকারী হিসেবে দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি স্বেচ্ছায় প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন।
লিয়াম ফক্স ইইউ ত্যাগের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। অন্যদিকে স্টিফেন ক্র্যাব ছিলেন ইইউতে থাকার পক্ষে। তবে এই দুই প্রার্থীই থেরেসা মের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন। তাঁদের সমর্থনের ফলে নেতা নির্বাচিত হওয়ার পথে থেরেসা মের অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো।
সব মিলিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা থেরেসা মে মঙ্গলবার রাতে বলেছেন, একমাত্র তিনিই ব্রিটেনকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন। থেরেসা মে বৃহস্পতিবার তার প্রার্থিতা ঘোষণার পর দুই কেবিনেট মন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন ও প্যাট্রিক ম্যাকলফলিন সমর্থন জানিয়েছেন তার প্রতি। তারা থেরেসার নির্বাচনী প্রচারণার পক্ষে কাজ করবেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্যালন বলেছেন, ‘যে সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে’ তা থেকে উত্তরণের জন্য থেরেসাই সঠিক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘থেরেসাই সর্বোত্তম ব্যক্তি যিনি ইইউ থেকে আমাদের বেরিয়ে যাওয়ার পথে নেতৃত্ব দিতে পারবেন; যাতে করে আমাদের কঠিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুরক্ষার পাশাপাশি আমরা অভিবাসী কমাতে পারব ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করতে পারব।’
পরিবহনমন্ত্রী প্যাট্রিক ম্যাকলফলিন ডেইলি সানে লিখেছেন, থেরেসে মে’র মধ্যে বিশেষ ‘ইট’ ফ্যাক্টর রয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা জানি যে আমাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীকে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আমরা বাকি বিশ্বের সামনে আমাদের উজ্জ্বল একটি ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। এক্ষেত্রে তার সম্পর্কে পূর্বের অভিজ্ঞতা এমন যে তিনি যখন ব্রাসেলসে হাজির হন, ইউরোপের নেতারা চুপচাপ বসে তার কথা শোনেন।’
এদিকে ডেইলি মেইলও তাদের শুক্রবারের সংখ্যার প্রচ্ছদেই সমর্থন জানিয়েছে থেরেসাকে। পত্রিকাটি শিরোনামে লিখেছে, ‘অগ্নিশিখার মুখে দল এবং কেন থেরেসাকেই দায়িত্ব নিতে হবে’। তাতে লেখা হয়েছে, ওয়েস্টমিনিস্টার যখন ক্রমেই পাগলাগারদ সাদৃশ্য হয়ে পড়ছে তখন দেশের হাল ধরার জন্য শক্তিশালী ও অবিচল একজন নেতৃত্ব প্রয়োজন।
এই নির্বাচনে থেরেসা মে’র প্রতিপক্ষ হিসেবে লন্ডনের সাবেক মেয়র ও ইইউ ত্যাগের পক্ষের প্রধান নেতা বরিস জনসনকে সবাই প্রত্যাশা করে আসছিলেন। তবে নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেয়ার সময় বরিস নিজেকের প্রত্যাহার করে নেন নির্বাচনী দৌড় থেকে।
/এমপি/








