পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। বুধবারই বাকিংহাম প্যালেসে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার আগে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ হাউজ অব কমন্সে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষবারের মতো প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যামেরন বলেন, ‘দেশের সমস্যা মোকাবেলার জন্য এবং জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণকে নেতৃত্ব দিয়ে একটি সুন্দর আগামী গড়ার লক্ষ্যে আমি ডাউনিং স্ট্রিটে এসেছিলাম। আমি আজ বিদায় নিতে যাচ্ছি। আশা করছি জনগণ ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি দেশ পাবে এবং পরিবর্তন আসবে’।
হাউজ অব কমন্সের প্রশ্নোত্তর পর্বের পর বাকিংহাম প্যালেসে পদত্যাগপত্র জমা দিতে যাবেন ক্যামেরন। হবু প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেও আলাদা করে রানীর সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। সেখানে রানী তাকে ক্ষমতাগ্রহণের জন্য প্রস্তাব দেবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনিই হবেন ব্রিটেনের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। মার্গারেট থ্যাচার ছিলেন প্রথম ব্রিটিশ নারী প্রধানমন্ত্রী।
ধারণা করা হচ্ছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই থেরেসা মে তার মন্ত্রিপরিষদ ঘোষণা করবেন। ব্রেক্সিট সংক্রান্ত আলোচনার জন্য একজন মন্ত্রীকে তার নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। আর চ্যান্সেলর অব একচেকার অর্থাৎ অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদে বেশ কয়েকজন নারীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে।
ডেভিড ক্যামেরনের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড় থেকে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রিয়া লিডসম সরে দাঁড়ানোর ফলে থেরেসার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেছে। আর মঙ্গলবারই ছিল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্যামেরনের শেষ দিন। এদিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেভিড ক্যামেরন।
গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় যাওয়ার পরপরই পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। সেপ্টেম্বরে তার বিদায় নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নতুন নেতা নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় ক্যামেরন বুধবারই বিদায় নিচ্ছেন। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/








