ভারতে ঢুকে জাল নোটসহ তিনি ধরা পড়েছিলেন উত্তর প্রদেশে। ছ’বছর আগের ঘটনা। বিচারে তার জেল হয়। দু’বছর আগে তিনি ছাড়াও পান। এরপর গত বছর নভেম্বরে আবার ভারতে ঢোকার দু’মাসের মধ্যে জাল নোটসহ ধরা পড়ে গেলেন। এবার মালদহে। জানুয়ারি মাসে কালিয়াচকে ধরা পড়া বাংলাদেশি মোহাম্মদ আনারুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুক্রবার চার্জশিট পেশ করেছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)।
গোয়েন্দারা জেনেছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ এলাকার খড়িয়াল গ্রামের বাসিন্দা আনারুল প্রতিবারই বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে ভারতে ঢুকেছেন।
গুলশন ও কিশোরগঞ্জে হামলার পর বাংলাদেশের জঙ্গি চাঁইদের কয়েকজন ভারতে ঢুকে থাকতে পারে বলে দু’দেশের গোয়েন্দাদের একাংশ সন্দেহ করছেন। সে ক্ষেত্রে বারবার বৈধ পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে জালনোটের কারবারির বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকে পড়া বিপদের ইঙ্গিত বলে ওই গোয়েন্দাদের অভিমত।
এক গোয়েন্দা-কর্মকর্তা বলেন, ‘একজন আনারুলের কথা আমরা জানতে পারলাম। এ রকম কত আনারুল আছে, তা কে জানে! যারা জেল খেটে বেরিয়েও দেশে ফিরে আবার ভারতে ঢুকে এই ধরনের কারবারে যুক্ত হচ্ছেন।’
তদন্তকারীরা জানান, আনারুলের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন বা ইউএপিএ-র ১৬ ও ১৮ ধারায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ করা ও সেই কার্যকলাপের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের ব্যাখ্যা, আনারুলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আট লাখ টাকার ভারতীয় জালনোটের মান খুবই ভালো, আসল নোটের পাঁচটিরও বেশি ‘সিকিওরিটি ফিচার’ তার মধ্যে আছে। এছাড়া, আনারুল একজন বিদেশি নাগরিক এবং বারবার সে একই অপরাধ করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে ইউএপিএ দিয়েছেন তদন্তকারীরা।
এক তদন্তকারী অফিসার জানান, আনারুলকে ২০০৮ সালে গ্রেফতার করেছিল ফিরোজাবাদ জেলা পুলিশ। জাল নোট পাচারের সেই মামলায় তার সাজা হয়। ২০১৪ সালে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি জেল থেকে বের হন। তাকে ‘পুশব্যাক’ করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। ততদিনে তার আগের পাসপোর্টের মেয়াদ ফুরিয়েছে। নতুন করে তিনি দরখাস্ত করে পাসপোর্ট পান, ভারতে আসার জন্য ভিসার আবেদন করেন। রাজশাহীর সহকারী ভারতীয় দূতাবাস থেকে ভিসা পেয়ে গত বছর আগস্টে ফের ভারতে ঢোকেন। বাংলাদেশে ফেরেন সেপ্টেম্বরে। তারপর আবার গত বছর নভেম্বরে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকেন আনারুল।
তদন্তে জানা গিয়েছে, নভেম্বরে ভারতে ঢুকে জাল নোট ছড়াতে তিনি ফের ফিরোজাবাদে যান। মাস দুয়েক পর ফিরোজাবাদে জাল নোট চক্রের পাণ্ডা তাকে খবর দেয়, কয়েক লাখ টাকার জাল নোট বাংলাদেশ থেকে মালদহে পৌঁছেছে এবং সেটা আনতে মালদহে যেতে হবে। আর আট লাখ টাকার জাল নোটসহ জানুয়ারিতে কালিয়াচকে ধরা পড়ে যান। সেই টাকা তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন বৈষ্ণবনগরের বাসিন্দা রিপন শেখ। রিপন পালিয়ে যান। তার বিরুদ্ধেও শুক্রবার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
এক তদন্তকারী অফিসার বলেন, ‘যে ব্যক্তি ভারতে সাজা পেয়ে জেল খেটেছেন, তিনি কী করে সহজে ভিসা পেয়ে যাচ্ছেন? এটা আমরা দেখছি।’
তবে রাজশাহির সহকারী ভারতীয় দূতাবাসের এক কর্তা বলেন, ‘ভিসার আবেদনকারীর এই ধরনের রেকর্ড দেখার কোনও সুযোগ নেই।’
বাংলাদেশ থেকে আনারুলকে জাল নোট পাঠিয়েছিলেন শিবগঞ্জেরই আপেল শেখ। নিরক্ষর আনারুলের হয়ে পাসপোর্ট-ভিসার দরখাস্ত প্রতিবারই করেছিলেন ওই এলাকার এক দালাল। দু’জনের ব্যাপারে বাংলাদেশকে জানাচ্ছে এনআইএ। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, দু’দেশের মধ্যে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স ট্রিটি রয়েছে, সেই অনুযায়ী বাংলাদেশের কাছ থেকে ওই দু’জন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হবে। সেটা পেলে এই তদন্তে সুবিধা হবে বলে ওই অফিসারের দাবি।
/এমএনএইচ/








