অশান্ত কাশ্মিরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে জাতিসংঘে চিঠি লিখেছেন কাশ্মিরের স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠনগুলোর জোট হুরিয়ত কনফারেন্সের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী শাহ গিলানি। তিনি সেখানে আফস্পা প্রত্যাহার, জেলবন্দি যোদ্ধাদের মুক্তি দেওয়াসহ গণভোটের দাবি জানান।
কাশ্মিরি জনগণের পক্ষে লেখা ওই চিঠিতে গিলানি দাবি জানিয়েছেন, কাশ্মির থেকে দ্রুত সেনা প্রত্যাহার করতে হবে, তুলে নিতে হবে আফস্পা (এএফএসপিএ) বা সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ অধিকার আইন। চিঠিতে গিলানি লিখেছেন, জম্মু-কাশ্মিরের ‘বিতর্কিত’ চরিত্র মেনে নিয়ে ভারত যাতে গণভোটের পথে এগোয়, আফস্পা তুলে নেয় ও রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেয়, সে জন্য জাতিসংঘ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর মাধ্যমেই কাশ্মির উপত্যকায় শান্তি ফেরানো সম্ভব।
গিলানি বলেন, “কাশ্মিরে ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ চলছে। গত সপ্তাহে যখন কাশ্মিরি জনগণ ঈদ উপভোগ করছিলেন, তখনই ভারতীয় সেনাদের নেতৃত্বে তাদের ওপর নেমে আসে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’। এতে এখনও পর্যন্ত চল্লিশের বেশি কাশ্মিরি নিহত হয়েছেন, আহত সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি। নিরাপত্তাবাহিনী পেলেট গান ছোঁড়ায় শতাধিক মানুষের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অন্তত ৩৫ জন পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।”
বুরহান ওয়ানির ‘এনকাউন্টার’ সম্পর্কে তিনি চিঠিতে লেখেন, “বুরহান ছিলেন একজন জনপ্রিয় ‘প্রতিরোধী কমান্ডার’, তার মৃত্যুতে কাশ্মিরিরা যখন শোকজ্ঞাপন করছিলেন, তখন তা দমন করতে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ওপর হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে।”
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষত জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছেন গিলানি। কাশ্মিরে স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠনগুলোর অবাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
গিলানি বলেন, ‘যে সব দল কাশ্মিরের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে কথা বলে, তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হোক।’
গিলানির দাবি, ‘ভারত সরকার এই দাবিগুলো মেনে নিলেই কাশ্মিরে শান্তি ফিরবে।’ আর কাশ্মিরের মানবাধিকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরদারির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ৮ জুলাই অনন্তনাগের কোকেরনাগ এলাকায় সেনা ও পুলিশের বিশেষ বাহিনীর যৌথ অভিযানে হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানিসহ তিন হিজবুল যোদ্ধা নিহত হন। বুরহানের নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে কাশ্মির জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ কাশ্মিরিদের দাবি, বুরহানকে ‘ভুয়া এনকাউন্টারে’ হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে পুলওয়ামা ও শ্রীনগরের কিছু অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষোভের মাত্রা বেড়ে গেলে কাশ্মিরের দশটি জেলা, এমনকি দূরবর্তী গ্রামেও কারফিউ জারি করা হয়।
চলমান সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। প্রতিদিনই সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে জনগণ। কাশ্মিরের বিভিন্ন অঞ্চলে কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে স্থানীয় জনতা। এমন অবস্থায় দূর-দূরান্তের গ্রামেও কারফিউ জারি রয়েছে। বিচ্ছিন্ন রয়েছে টেলি যোগাযোগ।
চলমান অচলাবস্থায় বন্ধ করা হয়েছে কাশ্মিরের একাধিক সংবাদপত্র। পুলিশ প্রশাসন গত তিনদিন ধরে সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ রেখেছে।
সূত্র: গ্রেটার কাশ্মির।
/এসএ/








