জার্মানির মিউনিখ শহরে অলিম্পিয়া শপিং সেন্টারের ওই হামলাকারী শিশুদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ওই হামলায় হামলাকারীসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণ অলিম্পিয়া শপিং সেন্টারে ম্যাকডোনাল্ড’স-এর দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে প্রথমে পথচারীদের ওপর গুলি চালায়। সেখানে তার গুলিতে ১৫ বছর বয়সী এক মেয়ে নিহত হয়। আহতদের মধ্যেও কয়েকজন শিশু রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট হুবেরটাস আন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলাকারী ওই তরুণ ইরানি বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক। তিনি জানান, ওই হামলাকারী ইরান ও জার্মানির দ্বৈত নাগরিক। তবে হামলাকারীর নাম বা বিস্তারিত পরিচয় সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেননি তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী একাই হামলা চালিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরের রাস্তা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারী আত্মহত্যা করেছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছে। তবে হামলার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করা যায়নি। পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মিউনিখের পুলিশ প্রধান।
উল্লেখ্য, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মিউনিখের একটি শপিং সেন্টারে হামলা চালায় ওই বন্দুকধারী। হামলায় এখন পর্যন্ত হামলাকারীসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শিশুও রয়েছে। আহতের সংখ্যা ২১। এর মধ্যে ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হুবেরটাস আন্দ্রে আরও জানান, পুলিশের অভিযানে দুই হাজার ৩০০ পুলিশ সদস্য অংশ নেন। এর মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় পুলিশ সদস্য, জার্মানির অন্যান্য অন্যান্য অঞ্চলের পুলিশ সদস্য এবং সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার পুলিশ সদস্য।
এই হামলার সঙ্গে কথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সংযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও, এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি।
উল্লেখ্য, এক সপ্তাহের মধ্যে জার্মানিতে এটি দ্বিতীয় সন্ত্রাসী হামলা। এর আগে সোমবার জার্মানির একটি ট্রেনে আফগান কিশোরের কুঠার হামলার পর সতর্ক অবস্থায় রয়েছে পুলিশ। এর মধ্যেই শপিং সেন্টারে এ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলো। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জার্মানিতে কুঠার হামলাটি ছিল জিহাদি আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রথম হামলা। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। ওই হামলাটির দায় স্বীকার করে আইএস।
সূত্র: এপি, দ্য গার্ডিয়ান।
/এসএ/








