জার্মানির মিউনিখের সন্দেহভাজন হামলাকারীর ব্যাপারে জানাশোনা আছে এমন ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তার নাম আলি সনবলি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করা হয়নি।
গার্ডিয়ান জানায় জার্মানির ম্যাক্সভরস্টাডিট এলাকার যে অ্যাপার্টমেন্টটিতে মিউনিখের সন্দেহভাজন হামলাকারী বসবাস করতেন সে একই অ্যাপার্টমেন্টের নিচে একটি কফি শপ চালান স্টিফান বোমানস। সংবাদমাধ্যমটিকে ৪৭ বছর বয়সী এ ব্যক্তি মিউনিখের ‘হামলাকারী’ কেমন ছিলেন তার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রায়ই তাকে সামনে দিয়ে হেঁটে যেতে দেখতাম। সে খুব লাজুক প্রকৃতির ছিল। ৬ ফুট ২ ইঞ্চির মতো উচ্চতা ছিল তার। তাকে অলস বলে মনে হতো’।
স্টিফান জানান, মুনচেনার ওচেনব্লাট নামের একটি পত্রিকা বিলির কাজ করতো আলি সনবলি। পত্রিকাটি বিনামূল্যে সরবরাহ করা হতো। তিনি বলেন, ‘আমি প্রায়ই দেখতাম, পত্রিকা বিলি না করে সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিচ্ছে সনবলি’।
এদিকে সনবলির বাড়িতে তল্লাশি শেষে পুলিশ জানিয়েছে হামলাকারী তরুণ পূর্ববর্তী বিভিন্ন বন্দুক হামলা নিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর ও এ সংক্রান্ত বইপত্র নিয়ে নাড়াচাড়া করতো। তবে বন্দুকধারীর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের কোনও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়েছে। সে ইসলামি উগ্রপন্থা দ্বারাও প্রভাবিত ছিল না বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশের মুখপাত্র পিটার বেক বলেন, ‘ঠিক কী উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তারা কোনও পরিষ্কার ধারণা পাননি। এক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কিনা সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি’।
উল্লেখ্য, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মিউনিখের একটি রেস্টুরেন্ট ও শপিং সেন্টারে হামলা চালায় বন্দুকধারী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ৯ জনকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন ১৮ বছর বয়সী বন্দুকধারী। সবমিলে ওই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ২১ জন। ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মিউনিখে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে মিউনিখ কর্তৃপক্ষ। সূত্র: গার্ডিয়ান
/এফইউ/








