স্পেন থেকে পৃথক হয়ে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতালোনিয়া’র কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে বাকযুদ্ধ জোরদার করেছে কাতালোনিয়া সরকার। এক্ষেত্রে স্পেনিশ কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে রাজি নয় স্বায়ত্তশাসিত কাতালান সরকার। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
সার্বভৌমত্ব ইস্যুতে চলতি সপ্তাহে স্পেনের সাংবিধানিক আদালতকেও অবজ্ঞা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কাতালান কর্তৃপক্ষ। এর ৯ মাস আগে একটি সার্বভৌম কাতালান সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় কাতালান পার্লামেন্ট।
কাতালোনিয়া’র স্বাধীনতা ইস্যুতে সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন কাতালান পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট ক্রেম ফোরকাডেল এবং বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী রাউল রোমেভা। প্রায় একই সুরে দুজনই বলেন, তারা (স্পেন সরকার) আমাদের পরিত্যাগ করেছে এই ভেবে যে, আমাদের কোনও বিকল্প নেই। আমরা সবসময় এটা বলে এসেছি যে, আমরা স্কটল্যান্ডের মতো একটা চিত্র দেখতে চাই; যেখানে আমরা রাষ্ট্রের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা বা মধ্যস্থতা করতে পারবো। সেখানে আমরা সমন্বিত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি গণভোটের আয়োজন করতে পারবো। কিন্তু আমাদের এসব আওয়াজ ঘুরেফিরে আবার আমাদের কাছেই ফিরে আসছে।
২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাতালোনিয়া প্রাদেশিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় সেখানকার স্বাধীনতাকামীরা। নির্বাচনের ওই ফলের মধ্য দিয়ে স্পেন থেকে পৃথক হয়ে নতুন রাষ্ট্র গঠনের পথে এক ধাপ এগিয়ে যায় কাতালানরা।
ওই নির্বাচনে স্বাধীনতাপন্থী কোয়ালিশন দল এবং সিইউপি ১৩৫ আসনের মধ্যে যথাক্রমে ৬২ ও ১০ আসনে জয়লাভ করে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য প্রয়োজন ৬৮টি আসনের। সেখানে স্বাধীনতাপন্থীরা ৭২টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া মধ্য-বামপন্থী দল ২৫টি, কাতালোনিয়ার সমাজতান্ত্রিক দল ১৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। আর বামপন্থী দল ও কনজারভেটিভ পিপলস পার্টি সমান ১১টি করে আসনে জয়লাভ করে।
অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী কাতালোনিয়া অঞ্চলে বার্সেলোনাসহ স্পেনের চারটি প্রদেশ রয়েছে। এখানকার জনসংখ্যা ৭৫ লাখ।
/এমপি/








