মাত্রাতিরিক্ত দামের কারণে নিউ জিল্যান্ডের নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের স্কুল ছাত্রীরা স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করতে পারছে না। আর সে কারণেই তারা স্কুল ফাঁকি দিতে বাধ্য হচ্ছে। আর যারা ফাঁকি দিচ্ছেন না, তারা সংবাদপত্র বা নেকড়া ব্যবহার করছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই খবর জানিয়েছে।
গত তিন মাসে স্থানীয় দাতব্য সংস্থা কিডসক্যান দেশটির পাঁচ শতাধিক নিম্নবিত্তের স্কুলে চার হাজারেরও বেশি স্যানিটারি পণ্য সরবরাহ করেছে।
এর আগে সংস্থাটিকে এই বিষয়ে কাজ করার অনুরোধ জানিয়ে দেশটির সরকার ২৫ হাজার নিউ জিল্যান্ড ডলার অনুদান দেয়। কারণ বাজারে যখন এক প্যাকেট স্যানিটারি প্যাডের দাম ৪ থেকে ৮ ডলার, সেখানে তারা ওই প্যাড সরবরাহ করতে পারছে ১ ডলারে।
অকল্যান্ডের পাপাটোটো হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল ভন কুইলাল্ট বলেন, এটা খুবই জরুরি বিষয় যে, তাদের ৭০০ ছাত্রীর বেশিরভাগই নিম্নবিত্ত আর্থ-সামাজিক অবস্থা থেকে আগত। ঋতুস্রাবের সময় স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি কেনা সামর্থ্য তাদের নেই। কুইলাল্ট জানান, অনেক নিম্নবিত্তের স্কুলে শিক্ষকরা নিজেদের অর্থেই ছাত্রীদের স্যানিটারি প্যাড কিনে দেন।
চলতি বছর থেকেই কিডসক্যান স্কুলগুলোতে স্যানিটারি প্যাড সরবরাহ করছে। তারা ছাত্রীদের প্রতি প্যাকেট প্যাড ৫০ সেন্টে সরবরাহ করছে বলে জানিয়েছে।
পাপাটোটো হাই স্কুলের নার্স সারাহ কুল জানিয়েছেন, ছাত্রীদের আরও ৫০ সেন্ট কম দামে স্যানিটারি প্যাড সরবরাহ করার ফলে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন করে বেশি ছাত্রী প্যাড সংগ্রহ করছে।
তিনি বলেন, ‘এটা খুবই লজ্জাষ্কর বিষয় যে, আপনার জীবনের এমন একটি একান্ত বিষয়ে আপনাকে সাহায্য চাইতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, অনেক মেয়েরা এ বিষয়ে অপ্রস্তুত থাকে। অনেক মেয়েরা ঋতুস্রাবের সময়ে ব্যাথার জন্য আমাদের কাছে আসে। প্যারাসিটামল প্যাড থেকে কমদামি হলেও সেখানেও খরচের প্রশ্ন রয়েছে। অনেক দরিদ্র ছাত্রীদের জন্য এক খরচ বহন করাটাও কষ্টকর।’
অল্প বয়সী ছাত্রীরা ৫ থেকে ১৫ ডলারে স্যানিটারি প্যাড কেনার ক্ষমতা নেই, তাদের সাহায্যের জন্য লেবার পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য লুইসা ওয়াল একটি ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় স্কুলগুলো আমাকে জানিয়েছে, ছাত্রীরা স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করতে না পারায় স্কুলে আসছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই বিষয়টি খুবই সংবেদনশীল। এটা এখনও ট্যাবু হয়ে রয়েছে। স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করাটা এখন কোনও বিলাসবহুল পণ্য নয়, বরং এটা এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ঋতুস্রাবের সময়ে ছাত্রীরা স্কুলে আসতে পারছে না, তাতে তাদের শিক্ষায় ব্যাঘাত ঘটছে, এ সম্পর্কে আমি বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এসএ/বিএ/








