বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া রিজার্ভের একাংশ ফিরে পেতে 'চূড়ান্ত প্রক্রিয়া' শুরু করেছে বাংলাদেশ। এক বিশেষ প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শিগগির এই টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধি দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স এসব কথা জানিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের চুরি যাওয়া রিজার্ভ উদ্ধারে ফিলিপাইনকে এগিয়ে আসতে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রিয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। এমন সময়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘অচিরেই’ রিজার্ভের একাংশ ফিরে পাওয়ার আশা প্রকাশ করা হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ৯৫১ মিলিয়ন ডলার চুরির চেষ্টা করে। পরে বেশ কিছু পেমেন্ট বন্ধ করে দিয়ে বেশিরভাগ অর্থচুরি ঠেকানো গেলেও ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনে স্থানান্তরে সক্ষম হন হ্যাকাররা। ওই অর্থ ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার ব্রাঞ্চের চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে তা স্থানান্তরিত হয় ক্যাসিনোতে যার খুবই ক্ষুদ্র একটা অংশ ফিলিপাইনের সিনেটের কাছে ফিরিয়ে দেন কিং অন নামের ক্যাসিনো ব্যবসায়ী। সবশেষ খবর অনুযায়ী চুরি যাওয়া রিজার্ভের মধ্যে এক কোটি ৮০ লাখ ডলারের হদিস পাওয়া গেছে, যার দেড় কোটি ডলার ফিলিপিন্সের বিচার বিভাগের কাছে রয়েছে। সেই টাকা ফিরে পেতেই তৎপরতা চলছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।
রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে চলতি সপ্তাহেই বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা দেবপ্রসাদ দেবনাথ ও আব্দুর রব ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনজীবী আজমালুল হোসাইন ম্যানিলায় যান। প্রতিনিধি দলটির চারদিনের সফর শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে রয়টার্সে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংককে সাহায্য করতে নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে। রয়টার্সের হাতে আসা সেই চিঠিতে নিউ ইয়র্ক ফেড জানায়, বাংলাদেশের অর্থ উদ্ধার প্রচেষ্টায় তাদের সমর্থন রয়েছে।
রয়টার্সের শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনের বিচার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই পরিমাণ অর্থের মালিকানা দাবি করে শুক্রবার আদালতে মামলার সঙ্গে জমা দেওয়ার জন্য একটি হলফনামা তারা তৈরি করেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। দলের ঘনিষ্ট সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স এ কথা জানিয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা রয়টার্সরেক জানিয়েছেন রিজার্ভের ওই একাংশ উদ্ধারের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছেন তারা।
ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ রয়টার্সকে বলেন, ‘চুরি যাওয়া রিজার্ভের মধ্যে দেড় কোটি ডলার ফিরে পাওয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর বাকী অর্থ ফিরে পেতে আমরা একটা সিনেট শুনানির আহ্বান জানিয়েছি।'
রয়টার্স জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অর্থের যে অংশ বিচার বিভাগের কাছে নেই, তা ফিরে পেতে অন্য প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হবে বলে জানিয়েছে ফিলিপাইন।
উল্লেখ্য, রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটারের নিরাপত্তা ভেঙে নিয়ন্ত্রণ নেয় হ্যাকাররা। রিজার্ভের অর্থ চুরি করতে হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের লেনদেনব্যবস্থা ব্যবহার করে ৯৫ কোটি ডলার ছাড় করার জন্য ৩৫টি আলাদা পেমেন্ট অর্ডার পাঠায়। তারমধ্যে হ্যাকারদের ৫টি পেমেন্ট অর্ডারের ফাঁদে পা দিয়ে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলারের স্থানান্তর কার্যকরও করে নিউইয়র্ক ফেড।
/বিএ/








