সেনা ক্ষমতা পোক্ত করতেই থাইল্যান্ডে ‘জনবিচ্ছিন্ন গণভোট’!

বিদেশ ডেস্ক
০৭ আগস্ট ২০১৬, ১৪:৫৪আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৬, ১৪:৫৪
image

জান্তা সরকারের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চ্যান ওচাঁ নতুন সংবিধান অনুমোদনের প্রশ্নে থাইল্যান্ডে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। সেনাবাহিনীর দাবি, নতুন সংবিধানটি দুর্নীতি নির্মূলের মধ্য দিয়ে রাজনীতিবিদদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। তবে সমালোচকদের দাবি, সেনাকর্তৃত্ব বিস্তৃত করে বিভাজনকে জোরালো করা হয়েছে প্রস্তাবিত নতুন সংবিধানে। সংবিধানবিরোধীর ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়ন করায় নতুন সংবিধান প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোট জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তারা মনে করছেন, নতুন সংবিধান নিয়ে আলোচনা ও বিরুদ্ধ প্রচারণার সুযোগ না থাকায় এ সংক্রান্ত গণভোট নিয়ে জনগণের মধ্যে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। সবমিলে রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনা ক্ষমতা পোক্ত করতেই এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত নতুন সংবিধান সেনা-ক্ষমতার প্রসার ঘটাবে। ওই সংবিধান প্রণীত হলে আইনসভার ওপর এলিটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও মত দিয়েছেন তারা। নতুন সংবিধানে সেনা সদস্যদের জন্য আসন সংরক্ষিত রেখে পরিপূর্ণভাবে-নিয়োগকৃত একটি সিনেটের কথাও বলা হয়েছে। নির্বাচিত আইন প্রণেতাদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা পাবেন এ সিনেট সদস্যরা। তাছাড়া আদালতের ক্ষমতা বাড়ানোরও সুযোগ পাবেন তারা, অথচ থাইল্যান্ডের আদালতের বিরুদ্ধে আগে থেকেই রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে। সে কারণে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন সংবিধানকে ‘বৈষম্য নিরসনমূলক’ বলা হলেও একে বিভাজনমূলক বলেই মনে করছেন সমালোচকরা।

ভোট দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা
গণভোটে ভোটারদের কাছে আরও একটি প্রশ্নে হ্যাঁ অথবা না জানতে চাওয়া হচ্ছে। সে প্রশ্নটি হলো- ‘প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের জন্য পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষের সঙ্গে যোগ দিতে উচ্চ কক্ষকেও অনুমতি দেওয়া যায় কিনা?’ অর্থাৎ, উচ্চ কক্ষ সিনেটের ২৫০ জন নিয়োগকৃত সদস্য নির্বাচিত আইন প্রণেতাদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের সুযোগ পাবেন কিনা তা জানতে চাওয়া হচ্ছে। কেবল প্রধানমন্ত্রী বাছাই নয়, একই কায়দায় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়াও শুরু করা যাবে। ‌এর মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর ক্ষমতাকেই একরকম পাকাপোক্ত করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নতুন এ সংবিধানের মাধ্যমে মত প্রকাশ ও  তথ্যের অবাধ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা হবে। তবে এর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাওয়া যায়নি। প্রচারণা নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সংবিধানবিরোধীদের ওপর ধরপাকড় চালানো হয়। সংবিধানবিরোধীর ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন গণভোট আইনও প্রণয়ন করা হয়। এ আইেনর আওতায়, নতুন সংবিধানের খসড়া নিয়ে ‘কড়া’ কিংবা ‘মিথ্যে’ আলোচনা হলে তা অপরাধ বলে বিবেচনা করা হয়। সংবিধানের বিরোধিতা ও সমালোচনা করে যারা লিফলেট বিতরণ করবেন তাদেরকেও গ্রেফতারের সুযোগ রাখা হয় এ আইনের আওতায়। সমালোচকদের মতে, প্রচারণা চালানোর সুযোগ না দেওয়ায় থাই জনগণ এ সংবিধান সম্পর্কে খুব কমই জানে। আর তাই বিরোধীরা এ গণভোটকে একতরফা বলে উল্লেখ করেছে।

/এফইউ/বিএ/

সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম