তুরস্কের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ অন্যান্য কূটনৈতিক বন্ধন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাশিয়া প্রস্তুত রয়েছে বলে জানালেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেন্ট পিটার্সবার্গে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের সঙ্গে এক বৈঠকের পর এ আশ্বাস দেন তিনি।
গত মাসে তুরস্কে অভুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এটাই এরদোয়ানের প্রথম বিদেশ সফর। গত বছর নভেম্বরে সিরিয়া সীমান্তে একটি রুশ বিমান ভূপাতিত করার জন্য তুরস্ককে দায়ী করার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাশিয়া তুরস্কের ওপর বাণিজ্যিক অবরোধ আরোপ করে। তবে এবার এরদোয়ানের রাশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার সেই তিক্ত সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার ইঙ্গিত জোরালো হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুতিন বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রচণ্ড প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আপনার আজকের এ সফর এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আমরা নতুন করে আলোচনা শুরু করতে পারি।’
অন্যদিকে তুরস্ক ও রাশিয়ার সম্পর্কোন্নয়নের মধ্য দিয়ে দুই দেশের আঞ্চলিক সংকটের অবসান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এরদোয়ান। ১৫ জুলাই ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পর ফোন করায় পুতিনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। এরদোয়ানের মতে, পুতিনের ওই ফোন তুর্কি জনগণের মাঝে খুশির জোয়ার নিয়ে এসেছিল।
রাশিয়া সফরে যাওয়ার আগ মুহূর্তে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এ সময় তিনি বলেন, এটি হবে এক ঐতিহাসিক সফর এবং দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে এক নবদিগন্ত। এ সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিজের ‘বন্ধু’ বলেও উল্লেখ করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান।
সম্প্রতি তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার পর এরদোয়ান রাশিয়ার দিকে আরও ঝুঁকে পড়ছেন বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে,এরদোয়ান মনে করেন ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার পেছনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ নিয়ন্ত্রিত যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ইসলামি চিন্তাবিদ ফেতুল্লাহ গুলেন জড়িত। ফলে এরদোয়ান বুঝতে পেরেছেন সিআইএ ও ন্যাটো তার ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। এছাড়া কুর্দি বিদ্রোহীদের একটি অংশকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এটাকে ভালো চোখে দেখছেন না এরদোয়ান। আর সেকারণে রাশিয়ার সঙ্গে তিক্ততার অবসান ঘটাতে চান তিনি। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা
/এফইউ/







