ফিলিপাইনে ‘বন্দুকভক্ত’ প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে এবার তার দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। শুক্রবার টেলিভিশনে প্রকাশিত এক বক্তব্যে দুয়ার্তে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ফিলিপ গোল্ডবার্গ সম্পর্কে তার তীব্র অপছন্দের কথা বলতে গিয়ে তাকে যৌনবৈষম্যপূর্ণ গালি দেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান খবরটি নিশ্চিত করেছে।
তারা জানিয়েছে, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য, একটি অনুষ্ঠানে করা দুয়ার্তের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের। ওই অনুষ্ঠানে দুয়ার্তে বলেছিলেন, তিনি অস্ট্রেলীয় মিশনারির এক ‘সুন্দরী’ নারী, যাকে ১৯৮৯ সালে দাভাও কারা-বিদ্রোহের সময় যৌন নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছিল, তাকে ধর্ষণ করতে চেয়েছিলেন। তখন গোল্ডবার্গ এবং অস্ট্রেলীয় রাষ্ট্রদূত দুয়ার্তের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
শুক্রবার দুয়ার্তে একেবারে সরাসরি যৌনবৈষম্যপূর্ণ মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে। বলেন, ‘আপনারা যেমনটা জানেন, আমি লড়ছি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে। তার ... (আমরা যৌনবৈষম্যপূর্ণ মন্তব্য প্রকাশ করি না বলে দুয়ার্তের বলা কথাটি উল্লেখ করা হলো না: বি.স) বিরুদ্ধে। তিনি আমার কাজে বাধা দিচ্ছেন। তিনি (গোল্ডবার্গ) নির্বাচনের সময় এখানে-সেখানে বিবৃতি দিয়ে গেছেন। কিন্তু তার তা করা উচিত হয়নি।’
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুয়ার্তের ওই মন্তব্যের বিষয়ে আলোচনা করতে সোমবার ওয়াশিংটনে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিক দুয়াসোটোকে তলব করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এলিজাবেথ ট্রুডু বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কথোপকথন হয়েছে। আমি মনে করি, এমন বক্তব্য কেন করা হলো, তা বুঝতে নিজেদের মধ্যে আরও ভালো সমঝোতা প্রয়োজন।’
ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র চার্লস হোসে ওই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বুধবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মার্কিন-ফিলিপাইন সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক বিদ্যমান।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এসএ/বিএ/








