ব্রিটিশ পাকিস্তানি নারী সামিলা শহিদকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তার প্রাক্তন স্বামী। পাঞ্জাব পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন-এর খবরে এ কথা বলা হয়েছে। গত মাসে পাঞ্জাবে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ানোর সময় খুন হন পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ নাগরিক সামিয়া। দীর্ঘ আট বছর পর পাঞ্জাবে নিজের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসে অনার কিলিংয়ের শিকার হন এই বিউটিথেরাপিস্ট।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে ধারাবাহিক অনার কিলিং-এর বাস্তবতা রয়েছে। হিউম্যান রাইটস কমিশন পাকিস্তান-এর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে পাকিস্তানে প্রায় ১১০০ নারী স্বজনদের হাতে খুন হয়েছেন। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার। আর ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৮৬৯। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সংস্কৃতি, প্রথা, ধর্ম কিংবা ঐতিহ্য কোনও কিছুর নামেই নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানোর যৌক্তিকতা নেই।
ডন এর খবরে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন সামিয়ার প্রথম স্বামী।
সামিয়ার প্রথম স্বামী চৌধুরি শাকিলকে হত্যাকারী সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বাবা মোহাম্মদকে হত্যার সহযোগী হিসেবে আটক করা হয়। এ দুজনকে শনিবার পাকিস্তানের একটি আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে হাজির করার সময় তাদের হাতে হাতকড়া ও মুখ ঢাকা ছিল। আদালত তাদের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে শ্বাসরোধেই মৃত্যু হয়েছে সামিয়ার। যদিও সামিয়ার পরিবারের লোকেরা প্রথমদিকে দাবি করেছিল, হার্ট অ্যাটাকের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে, তার বর্তমান স্বামী সৈয়দ মুখতার কাজাম এর নেপথ্যে অনার কিলিংকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। মুখতার কাজিম বলেন, ‘আমি সবসময় ভয় পেতাম পাকিস্তানে গেলে আমার স্ত্রীকে তার পরিবার হত্যা করবে। সেই দুঃস্বপ্নটাই সত্যি হলো।’
ডন-এর রবিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের কাছে সামিয়াকে গলা টিপে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন শাকিল। তবে যে পুলিশ কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন তিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। ডন নিউজের খবরে ওই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, স্ত্রী সামিয়াকে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করতে বলেছিলেন স্বামী শাকিল। সামিয়া রাজি না হওয়ার তাকে হত্যা করে শাকিল।
উল্লেখ্য, অনার কিলিং এর ক্ষেত্রে পাকিস্তানের আইনে বেশ বড় ফাঁক রয়ে গেছে। পরিবার ক্ষমা ঘোষণা করলে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের কোনও বিচার হয় না। অনেক সময় দিয়াত বা ক্ষতিপূরণ দিয়েই পার পেয়ে যান অপরাধী। এ ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়ে অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অনার কিলিং’ এর জন্য দায়ী অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে ব্যর্থ হচ্ছে পাকিস্তান। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগীদের অধিকার হরণ করছে এবং দায়মুক্তির রাজত্ব তৈরি হয়েছে। আর তাতে দেশের নারীরা জীবনের নানা সময়ে এ ধরনের অপরাধীদের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকছেন।’ সূত্র: বিবিসি।
/এএ/বিএ/








