৭০তম স্বাধীনতা দিবসকে ভবিষ্যতের ‘স্বাধীন কাশ্মির’র প্রতি উৎসর্গ করেছে পাকিস্তান। ভারত ও পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম খবরটি নিশ্চিত করেছে। ভারত-পাকিস্তান চলমান উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আাবারও নেতিবাচক প্রভাব তৈরী করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৮ জুলাই অনন্তনাগের কোকেরনাগ এলাকায় সেনা ও পুলিশের বিশেষ বাহিনীর যৌথ অভিযানে হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানিসহ তিন হিজবুল যোদ্ধা নিহত হন। বুরহানের নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে কাশ্মির জুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিক্ষুব্ধ কাশ্মিরিদের দাবি, বুরহানকে ‘ভুয়া এনকাউন্টারে’ হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে পুলওয়ামা ও শ্রীনগরের কিছু অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষোভের মাত্রা বেড়ে গেলে কাশ্মিরের দশটি জেলা, এমনকি দূরবর্তী গ্রামেও কারফিউ জারি করা হয়। সেই থেকে আজও পর্যন্ত কাশ্মিরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। চলমান সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে।
স্বাধীনতা দিবসের বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ তাদের এবারের স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনকে ‘ভবিষ্যতে ভারতের কাছে থেকে কাশ্মিরের স্বাধীনতা’র প্রতি উৎসর্গ করেন। হাফিংটন পোস্টের খবরে তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘আমাদের এবারের স্বাধীনতা দিবস ভারত-অধিকৃত কাশ্মিরের স্বাধীনতার আন্দোলনের প্রতি উৎসর্গিত, যে কাশ্মির আজ জ্বলজ্বল করে জ্বলছে। [আমাদের আশা] কাশ্মিরের নতুন প্রজন্ম নতুন উদ্দীপনায় স্বাধীনতার ধাণ্ডা তুলে ধরবে।’
নওয়াজের বিবৃতির পর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে একই ধরনের মন্তব্য করেন ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাই কমিশনার আব্দুল বাসিত। টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, আব্দুল বাসিতও পাকিস্তানের ৭০তম স্বাধীনতা দিবস কাশ্মিরের মুক্তিকামী জনতার প্রতি উৎসর্গ করছেন। ভাষণে বাসিত বলেন, ‘কাশ্মিরের ভবিষ্যতের স্বাধীনতার নামেই পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের এবারের আয়োজন উৎসর্গিত হচ্ছে।’
কাশ্মির নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই সম্প্রতি বাসেতকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তখন তার মাধ্যমে ইসলামাবাদকে বলা হয়, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই একমাত্র আলোচনা চলতে পারে। আলোচনায় উঠে আসতে পারে সীমান্ত সন্ত্রাসের প্রসঙ্গও। কিন্তু কখনই কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা সম্ভব নয় বলে জানায় ভারত। দেশটির কেন্দ্রিয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং নিজেও পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। কাশ্মিরের এই অবস্থার জন্য রাজনাথ পাকিস্তানের দিকেই আঙ্গুল তোলেন।রাজ্যসভায় দেওয়া বক্তৃতায় বুধবার তিনি বলেন, ‘কাশ্মিরে যা হচ্ছে, তা পাকিস্তানের ইন্ধনেই হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে যদি আলোচনা হয়, তবে তা কাশ্মির সম্পর্কিত হবে না। তা হবে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরের বিষয়ে।’ তিনি কাশ্মিরকে ভারতের ‘অবিচ্ছেদ্য’ অংশ বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘বিশ্বের কোনও শক্তি কাশ্মিরকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না।’
এদিকে কাশ্মির নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যখন উত্তেজনা চলছে তখন ভারতের মাটিতে বসে দেওয়া বাসেতের এই বক্তব্য দুই দেশের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন অনেকে।
/বিএ/








