ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিদর্শনে একটি টিম পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিল ইউনাইটেড ন্যাশনস হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল (ইউএনএইচআরসি)। তবে এ ব্যাপারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থাটির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ইউএনএইচআরসি-এর আবেদন প্রত্যাখ্যান করে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এরইমধ্যে অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার প্যানেল জম্মু-কাশ্মিরে কাজ শুরু করেছে। পার্লামেন্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জম্মু-কাশ্মিরে ইউনাইটেড ন্যাশনস হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল (ইউএনএইচআরসি)-এর টিমের পরিদর্শনের কোনও প্রয়োজন নেই। সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভারত সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বরং পাকিস্তানই জিহাদি গ্রুপগুলোকে সহায়তার মাধ্যমে অবস্থার অবনতি ঘটিয়ে চলছে।
৮ জুলাই ২০১৬ তারিখে কাশ্মিরের অনন্তনাগের কোকেরনাগ এলাকায় সেনা ও পুলিশের বিশেষ বাহিনীর যৌথ অভিযানে হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানিসহ তিন হিজবুল যোদ্ধা নিহত হন। স্বাধীনতাকামী নেতা বুরহানের নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে কাশ্মির জুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিক্ষুব্ধ কাশ্মিরিদের দাবি, বুরহানকে ‘ভুয়া এনকাউন্টারে’ হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে পুলওয়ামা ও শ্রীনগরের কিছু অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষোভের মাত্রা বেড়ে গেলে কাশ্মিরের দশটি জেলা, এমনকি দূরবর্তী গ্রামেও কারফিউ জারি করা হয়। সেই থেকে আজও পর্যন্ত কাশ্মিরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। চলমান সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বুধবার রাজ্য সভায় আশা প্রকাশ করেন, শুক্রবারের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী যোগ দিতে পারেন। রাজনাথ আরও জানান, বিরোধী দল দাবি জানিয়েছে, সকল পার্টির সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল কাশ্মিরে পাঠানোর। কিন্তু ওই সফর সফল করার জন্য তার আগে কিছু কাজ করে নিতে হবে।
আলোচনা প্রসঙ্গে রাজনাথ সিং বলেন, ‘সকল প্রধান রাজনৈতিক দল, ‘মডারেট’ এবং ‘অন্যান্য সংগঠন’-এর সঙ্গে আলোচনার জন্য আমরা প্রস্তুত। আর আমরা (জম্মু-কাশ্মিরের) মুখ্যমন্ত্রীকেও এ বিষয়ে জানাবো। যার সঙ্গেই কথা বলা দরকার, আপনি তা শুরু করুন। আমরাও কথা বলতে প্রস্তুত। আমাদের সবাইকে এই আলোচনায় অংশ নেওয়া উচিত। এজন্যই আমি বলেছি, আমরা একটি সর্বদলীয় প্রতিনিধি দল কাশ্মিরে পাঠানোর কথা ভাবছি।’
রাজনাথ সিং দাবি করেন, ‘কখনও কখনও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর পতাকা উড়তে দেখা যায় কাশ্মিরে। আইএস কি করেছে? এই সংগঠনটি মুসলিমদেরও হত্যা করেছে। আমি (কাশ্মির) উপত্যকার তরুণদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, ইসলামে অপরকে হত্যা করা, শিরশ্ছেদ করার অনুমোদন নেই। যেসব মানুষ ওইসব দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে, তারা ইসলামের নাম খারাপ করছেন।’ সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
/এমপি/বিএ/








