যেদিন থেকে বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড রাখা শুরু হয়েছে, তখন থেকে এ পর্যন্ত হিসেব কষে নাসা বলছে, এ বছরের জুলাই মাসটি পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ মাস। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশনোগ্রাফিক অ্যান্ড অ্যাটমসফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও (নোয়া) প্রায় একই ধরনের তথ্য দিয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই ভয়াবহতার পেছনে জলবায়ুর মনুষ্যসৃষ্ট পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মাত্র ১২ মাস আগের রেকর্ড ভেঙ্গে ২০১৬ সালের জুলাই উষ্ণতার দিক থেকে সর্বোচ্চ স্থান করে নিয়েছে বলে জানিয়েছে নাসা।
উল্লেখ্য, ১৯৮০ সাল থেকে বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড রাখা শুরু হয়। তখন থেকে এ বছর জুলাই পর্যন্ত তথ্য আমলে নিয়ে দেখা গেছে, এ বছর জুলাইয়ের গড় তাপমাত্রা অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশনোগ্রাফিক অ্যান্ড অ্যাটমসফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া) প্রায় একই ধরনের তথ্যে জানায়, গত ১৪ মাস ধরে প্রতি মাসেই আগের মাসের রেকর্ড ভেঙ্গে গেছে। তবে নোয়া এখনও জুলাই মাসের তাপমাত্রার বিষয়ে কিছু জানায়নি।
নাসার রেকর্ডে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা যুক্ত করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের জুলাই মাস ১৯৫১ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত জুলাই মাসের গড় তাপমাত্রার চেয়ে দশমিক ৮৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বেশি ছিলো এবং ২০১৫ সালের জুলাই মাসের থেকে দশমিক ১১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বেশি ছিলো।
ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের জলবায়ু বিজ্ঞানী ডেভিড ক্যারোলি বলেন, এমনটা হওয়ারই কথা ছিলো। এই ফলাফল বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং এল নিনোর মিলিত প্রভাবের ফলে ঘটেছে। এল নিনোর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের পানি উষ্ণ হয়ে উঠেছে।
ক্যারোলি বলেন,এল নিনোর প্রভাবে দশমিক ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত ব্যাতিক্রম ঘটতে পারে। কিন্তু ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি মানব সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলাফল। তিনি আরও বলেন, এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের উষ্ণতাও ছিলো ১৯৫১ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের গড় উষ্ণতার চেয়ে বেশি। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে এল নিনোর প্রভাবের শেষ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
/ইউআর/বিএ/








