যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ইমাম ও তার সহকারীকে হত্যার মতোই লেবানীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক খালিদ জাবারাকে গুলি করে হত্যার ঘটনাটিকেও ‘মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে আরব কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত খালিদের পরিবারের দাবি, হত্যাকারী ব্যক্তি নানাসময়ে আরববিরোধী ও মুসলিমবিরোধী শব্দ ব্যবহার করে তাদেরকে গালি দিতো।
লেবানিজ-আমেরিকান খালিদের হত্যাকাণ্ডের একদিনের মাথায় নিউ ইয়র্কের মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর এক বাংলাদেশি ইমাম আর তার সহযোগীকে হত্যা করা হয়। এর নেপথ্যেও মুসলিমবিদ্বেষকেই এখন পর্যন্ত কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১২ আগস্ট) ওকলাহোমার টুলসা এলাকায় নিজ বাড়ির সামনের গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ৩৭ বছর বয়সী খালিদ জাবারা। ওই ঘটনায় ৬১ বছর বয়সী প্রতিবেশী স্ট্যানলি ভেরনোন মেজর্সকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে মেজর্সকে পূর্বপরিকল্পিত ও বিদ্বেষমূলক হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশ্য পুলিশ বলছে, মেজর্সকে বিদ্বেষমূলক অপরাধ সংঘটিত করার জন্য অভিযুক্ত করা হবে কিনা সে ব্যাপারে এখনই বলা যাচ্ছে না।
সোমবার (১৫ আগস্ট) অনলাইনে দেওয়া এক বিবৃতিতে খালিদ জাবারার বোন ভিক্টোরিয়া জাবারা দাবি করেছেন, তার পরিবার সবসময় ওই সন্দেহভাজন হত্যাকারীর আতঙ্কে থাকত। গত বছরের সেপ্টেম্বরে খালিদের মা হাইফাকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে মেজর্সের বিচার হতে যাচ্ছিল। তবে মে মাসে বন্ডে স্বাক্ষর করে ছাড়া পান মেজর্স।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মেজর্স প্রতিনিয়ত ‘ডার্টি আরবস’ ‘ফিলদি লেবানিজ’ ‘মুসলেমস’-সহ বিভিন্ন আরববিরোধী শব্দ ব্যবহার করে তাদের গালি দিতো।
ভিক্টোরিয়া জাবারার বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমার ভাইকে গুলি করার ৩০ মিনিট আগে মেজর্সের হাতে বন্দুক দেখে ও পুলিশকে ডেকেছিল। পুলিশ এসে আমার ভাইকে বললো কিছুই হবে না।’ খালিদের হত্যাকাণ্ড ঠোকানোর সুযোগ ছিল বলেও দাবি করেছে পরিবার।
তবে পুলিশের দাবি, খালিদ যখন ডেকে পাঠিয়েছিলেন তখন ঘটনাস্থলে তারা কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আলামত পাননি। আর তাই পুলিশ কর্মকর্তারা ওই এলাকা থেকে ফিরে যান। পুলিশের পক্ষ থেকে এও নিশ্চিত করা হয়েছে যে মেজর্সের বিরুদ্ধে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ খালিদের মায়ের কাছে ছিল, যার আওতায় মেজর্সকে তার থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে এতোকিছুর পরও খালিদের বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’-এর অভিযোগ আনা হবে কিনা তা এখনই বলার সময় আসেনি বলে জানিয়েছে টুলসার পুলিশ।
এদিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স (সিএআইআর) নাগরিক অধিকারবিষয়ক পরিচালক ভেরোনিকা লাইজুরের মতে এ হত্যাকাণ্ডটি আরববিরোধী বিদ্বেষের ফলাফল হতে পারে। কেননা মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষ থেকে এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এটাই প্রথম নয়।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১৭৪টি মুসলিমবিরোধী সহিংসতা হয়েছে।
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিয়া শাদি বারাকাত, তার স্ত্রী ইয়ুসুর সালহা, তার বোন রাজান সালহা চ্যাপেল হিলে নিজেদের বাড়ির কাছে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন। সর্বশেষ শনিবার (১৩ আগস্ট) নিউ ইয়র্কে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর এক মসজিদের ইমামসহ দুই বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতারা অভিযোগড় করেন ‘এটি মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ’। সূত্র: আল জাজিরা
/এফইউ/বিএ/








