শিগগিরই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বেলুচিস্তান বিষয়ক নীতিগত অবস্থান ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বুধবার ভারত সফরে গিয়ে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে জাতীয় ও ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেন ইনু। সেখানেই বেলুচিস্তানের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
উল্লেখ্য, বেলুচিস্তানের চলমান আন্দোলনের একাধিক মাত্রা রয়েছে। সেগুলো হলো পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতার দাবি। পাকিস্তানের শাসনক্ষমতা, সেনাবাহিনী বা প্রশাসনের উচ্চস্তরে বেলুচদের অবস্থান খুবই সীমিত। সেই সঙ্গে তাদের ওপর ধর্মীয় ও জাতিগত নিপীড়ন চালানো হয় বিভিন্নভাবে। তাই সেখানে সবসময়ই স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন হয়ে আসছে।
বেলুচিস্তানের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে ইনু দ্য হিন্দু-কে বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে জাতিসত্তার আন্দোলনের প্রতি পাকিস্তানের ট্র্যাক রেকর্ড ভালো নয়। তাদের সেনা ব্যবস্থাপনা ক্রমাগত বিভিন্ন জাতিসত্তার ওপর আক্রমণ করেছে। তারা ১৯৭১ থেকে কোনও শিক্ষা নিতে পারেনি এবং একই নীতি অনুসরণ করে বেলুচদের ওপর জাতিগত নিপীড়ন চালিয়ে গেছে।’
বেলুচিস্তানের আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থন করবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশ জাতিসত্তার স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন করতে বাধ্য। বেলুচিস্তানের ক্ষেত্রেও আমরা শিগগিরই আমাদের আনুষ্ঠানিক নীতিগত অবস্থান ঘোষণা করব।’
বেলুচিস্তানে একটি প্রাদেশিক সরকার থাকলেও সেখানে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কার্যত ভিনদেশি আগ্রাসী বাহিনীর মতো করে দমননীতি জারি রেখেছে। নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে প্রাদেশিক সরকারের তেমন কোনও অবস্থান নেই। তাই বেলুচিস্তানের আন্দোলনের সঙ্গে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে বলেও তথ্যমন্ত্রী মনে করেন। তিনি অপর এক সাক্ষাৎকারে ইন্ডিয়া টুডে-কে বলেছেন, ‘পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এবং সেনাবাহিনী অন্যান্য জাতিসত্তা এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী পোষণ করে। ১৯৭১ সালেও এমনটাই হয়েছিল, যখন পাকিস্তান নৃশংসভাবে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী সংগ্রামকে দমন করতে চেয়েছিল।’
এর আগে ভারতের মন্ত্রী এম.জে. আকবরও বেলুচিস্তানের আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের আন্দোলনের সাদৃশ্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে কাশ্মিরে চলমান আন্দোলনের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘কাশ্মিরের বিষয়ে ভারত এবং পাকিস্তানকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ কাশ্মির আন্তর্জাতিক ইস্যু নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এবারের ভারত সফরে তথ্যমন্ত্রী দিল্লির নামকরা স্ট্র্যাটেজিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি বস্তুনিষ্ঠ ছবি তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্সের অর্থায়নে পরিচালিত হয় এই অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন বা ওআরএফ, তাদের মতামত বা গবেষণা যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়ে থাকে ভারত সরকারের কাছেও। সেই ওআরএফ-এর মঞ্চে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ভাষণ তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী ইনুর বক্তৃতার আগে এই অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য পেশ করবেন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী, যিনি দীর্ঘদিন ঢাকাতে ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ সফরে হাসানুল হক ইনু ভারতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক বা ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের কয়েকজনের সঙ্গেও দেখা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ হতে পারে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সঙ্গেও।
জাসদের প্রবীণ নেতা হাসানুল হক ইনু দিল্লির অত্যন্ত আস্থাভাজন ও বহুদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র বলেও পরিচিত। এবারের সফর বাংলাদেশ-ভারতে মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতাকে একটা ভিন্ন মাত্রা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
/এসএ/বিএ/








