জম্মু-কাশ্মিরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরের অধিকাংশ এলাকা থেকে মঙ্গলবার কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়েছে। হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানিসহ তিন হিজবুল যোদ্ধা নিহতের ঘটনায় কাশ্মিরজুড়ে সৃষ্ট অস্থিরতায় ওই কারফিউ জারি করা হয়েছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কথা জানিয়ে শ্রীনগরে আংশিকভাবে কারফিউ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দুই দিনের সফরে জম্মু-কাশ্মির যাচ্ছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ৮ জুলাই অনন্তনাগের কোকেরনাগ এলাকায় সেনা ও পুলিশের বিশেষ বাহিনীর যৌথ অভিযানে হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানিসহ তিন হিজবুল যোদ্ধা নিহত হন। বুরহানের নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে কাশ্মির জুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিক্ষুব্ধ কাশ্মিরিদের দাবি, বুরহানকে ‘ভুয়া এনকাউন্টারে’ হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে পুলওয়ামা ও শ্রীনগরের কিছু অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষোভের মাত্রা বেড়ে গেলে কাশ্মিরের দশটি জেলা, এমনকি দূরবর্তী গ্রামেও কারফিউ জারি করা হয়।
তবে পরিস্থিতির উন্নিতির কথা জানিয়ে সোমবার আট ঘণ্টার জন্য ১২টি থানা এলাকায় কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়। ওই সময়ে পরিস্থিতি শান্ত থাকায় মঙ্গলবার থেকে বেশিরভাগ এলাকা থেকে কারফিউ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। তবে পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কারফিউ আংশিক প্রত্যাহার করা হলেও পাঁচটি থানায় নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। কারফিউ প্রত্যাহারের কয়েক দিন আগে কাশ্মিরে আংশিকভাবে মোবাইল সেবা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। গত শনিবার কাশ্মিরে পোস্ট-পেইড মোবাইল সেবা পুনরায় চালু করা হয়।
দেড় মাস ধরে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার পর কারফিউ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে আপাত স্বস্তি পাচ্ছেন শ্রীনগরের বাসিন্দারা।
এদিকে কাশ্মিরের বিদ্যমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বুধবার দুই দিনের সফরে জম্মু-কাশ্মির যাচ্ছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। সফরে তিনি স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলবেন। কাশ্মিরের চলমান পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি’র উদ্বেগ প্রকাশের একদিনের মাথায় রাজনাথ সিং-এর এ সফরের ঘোষণা এলো।
সূত্র: দ্য হিন্দু, রয়টার্স।
/এমপি/বিএ/








