ক্ষমতাশালী ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের ভূমিকা উন্মোচনের যে দর্শনকে উপজীব্য করেই পরিচালিত হয় উইকিলিকস। তবে এর সমান্তরালে তারা একটি প্রতিশ্রুতি হাজির করে বিশ্ববাসীর সামনে। সেটা হলো, রাষ্ট্রীয় কিংবা বহুজাতিক বাণিজ্যের নজরদারির বিপরীতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার প্রশ্ন। তবে নিজেদের ওয়েবসাইটে নিজেদেরকে গোপনীয়তার শীর্ষে অবস্থানকারীদের অন্যতত দাবিকারী এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত তথ্য ঢালাওভাবে ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে অ্যাসাঞ্জ আর তার উইকিলিকসের অবস্থান। ধরা পড়েছে এর স্ববিরোধ।
প্রথমদিকে তথ্য ফাঁসকারীদের জন্য উইকিপিডিয়ার মতো ওয়েবসাইট তৈরির কথা ছিলো। বর্তমানে অকার্যকর উইকিলিকসের প্রশ্নোত্তর পর্বে উল্লেখ করা তথ্য অনুসারে, এর প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল বিশ্বব্যাপী সম্প্রদায়ের সচেতন মানুষদের জন্য ফাঁস করা তথ্য সংরক্ষণ করা। ব্যক্তিগতভাবে জবাবদিহিতার পক্ষে কাজ করা খ্যাতিমান ব্যক্তি অ্যাডভোকেট স্টিভেন আফটারগুড এ বিষয়ে অ্যাসাঞ্জকে সতর্কও করেছিলেন। ২০০৬ সালে এক ইমেইলে উদ্বিগ্ন আফটারগুড লিখেছেন, ‘সব সময় তথ্য প্রকাশ করা স্বাধীনতা নয়। এটা অনেক সময় আগ্রাসী ও নির্যাতন হতে পারে।’
এ উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পায় ২০১০ সালে মার্কিন সেনা বাহিনীর অ্যানালিস্ট ব্র্যাডলি ম্যানিংয়ের সরবরাহ করা বেশ কিছু নথি প্রকাশের পর। এসব গোপন নথিতে ইরাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আফগানিস্তানে তালেবানকে পাকিস্তানের সহযোগিতা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণও প্রকাশ পায়। কিন্তু এসব নথিতে অভিযোগ করা হয়, যুদ্ধাঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকরা ঝুঁকিতে আছেন।
অ্যাসাঞ্জ দাবি করে আসছেন, সাধারণ মানুষের তথ্য নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা আছে উইকিলিকসের। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডে অক্সফোর্ডে এক বক্তব্যে অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘ক্ষতি কমিয়ে আনার একটি নীতি আমাদের রয়েছে। বৈধ অনেক গোপনীয়তা রয়েছে। চিকিৎসকের সঙ্গে আপনার তথ্য, এরকমই বৈধ গোপনীয়তা।’
অথচ সেইসব গোপন তথ্য ফাঁসেই অভিযুক্ত হলো উউকিলিকস।
উইকিলিকসের দাবি করা উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে, ‘যুদ্ধ সংক্রান্ত, গোয়েন্দা ও দুর্নীতির তথ্য’ যা সেন্সর ও গোপন, তা জনগণের সামনে প্রকাশ করা। উইকিলিকস নিজেদের বিশ্বের গোপন তথ্যের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি হিসেবে মনে করে। তাদের শ্লোগান হলো: আমরা সরকারের ভূমিকা উন্মোচন করি।
তবে সরকার বা ক্ষমতাশালীদের বাইরে এবার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসে অভিযুক্ত উইকিলিকস। এতে সামনে চলে এসেছে তার স্ববিরোধ।
সূত্র: এপি
/বিএ/








