ফ্রান্সে বুরকিনি নিষিদ্ধের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ালো। সম্প্রতি বুরকিনির ওপর নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালতে আপিল করে হিউম্যান রাইটস লিগ নামে একটি এনজিও। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত কাউন্সিল অব স্টেট এ আবেদন পর্যালোচনা করবে। আদালতের রায়েই নির্ধারিত হবে ওই ‘বিতর্কিত’ নিষেধাজ্ঞার ভবিষ্যৎ।
এর আগে গত সপ্তাহেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে দেশটির নিস শহরে বুরকিনি পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
সম্প্রতি নিস সৈকতে শুয়ে ছিলেন এক নারী। তার পরিহিত পোশাকই পুলিশের কাছে হয়ে ওঠে তার একমাত্র পরিচয়। ওই নারী বুরকিনি পরেছিলেন। নিসে বুরকিনি নিষিদ্ধের ‘বিতর্কিত’ ঘোষণা থাকায় পুলিশ ওই নারীকে বুরকিনি খুলতে বাধ্য করে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে ফ্রান্সে বুরকিনি নিষিদ্ধের বিষয়টি আলোচনায় আসে। অবশ্য ফ্রান্সের কয়েকটি অঞ্চলে আগে থেকে এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। আর নিস শহরে গত সপ্তাহেই বুরকিনির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
নিস শহরের ৩৪ বছর বয়সী ওই নারীর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, নিসের সৈকতে প্রমেনাদে দেজ অ্যাংলেইসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আর্মড পুলিশ তাকে ঘিরে ধরে স্কার্ফ খুলতে বাধ্য করে। ওই নারীর পরনে ছিল নীল স্কার্ফ, লেগিংস এবং টিউনিক।
তাকে পুলিশ জরিমানাও করেছে। তার জরিমানার রশিদে লেখা হয়েছে, তিনি সেক্যুলারিজম এবং ভালো নৈতিক বোধসম্পন্ন পোশাক পরেননি।
ওই নারী কেবল তার প্রথম নাম ‘সিয়াম’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার পরিবার নিয়ে সৈকতে বসেছিলাম। আমি একটি গতানুগতিক স্কার্ফ পরেছিলাম। সাঁতার কাটার কোনও ইচ্ছাই আমার ছিল না।’
ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ম্যাথিলডে কাজিন বলেন, “সবচেয়ে কষ্টের বিষয় ছিল যে, সেখানকার লোকজন ‘বাড়ি যাও’ বলে চিৎকার করছিলেন। কেউ কেউ পুলিশকে করতালি দিচ্ছিলেন। আর তার মেয়ে কাঁদছিল।”
বিশ্লেষকদের মতে, এমন নিষেধাজ্ঞা ফ্রান্সের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
গত সপ্তাহে নিসে বুরকিনি ও বুরকিনির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে স্থানীয় একটি নিম্ন আদালত। এ নিয়ে মোট ১৫টি শহরে এই নিষেধাজ্ঞা জারি হলো। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এমপি/








