ইতালিতে ৬.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দুইদিন পেরিয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তূপ থেকে আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে। এরপরও জীবিত উদ্ধারকে প্রাধান্য দিয়ে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। এরইমধ্যে ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ইতালির সরকার। দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে ২৬৭ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। আহত হয়েছে ৩৬৫ জন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী ম্যাটিও রেনজি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পুনর্বাসনের জন্য ৫০ মিলিয়ন ইউরো অর্থ সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় বুধবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে শক্তিশালী মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ইতালির বিভিন্ন শহর। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ৬.২ মাত্রার ওই ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল রোমের উত্তর-পূর্বের রেইতি নামক একটি স্থান। এটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূমির ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের পর থেকে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ৫ হাজার উদ্ধারকারী অভিযানে অংশ নিয়েছেন। তবে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এখনও ইতালিতে থেমে থেমে আফটার শক অনুভূত হওয়ার কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।
ভূমিকম্পে ইতালির পার্বত্য এলাকা আমাত্রিস, আকুমোলি ও পেসকারা দেল ট্রন্টো এলাকা সবচেয়ে ক্ষত্রিগ্রস্ত হয়েছে। কেবল আমাত্রিস থেকেই এখন পর্যন্ত ২শটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শহরটির বিভিন্ন ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে রমা হোটেলের ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন। আমাত্রিস থেকে তিন ব্রিটিশের মরদেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আর রোমানিয়ার সরকার জানিয়েছে, তাদের ১১ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছে।
দমকল বিভাগের কর্মকর্তা লরেঞ্জো বট্টি জানান, তাদেরকে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ধ্বংসস্তূপে কাউকে জীবিত অবস্থায় পাওয়ার সুযোগ কম ও চ্যালেঞ্জিং বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কোনও কোনও উদ্ধারকারী অবশ্য এখনও জীবিত উদ্ধারের আশায় বুক বেঁধে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, ২০০৯ সালে ভূমিকম্পের তিন দিন পরও ধ্বংসস্তূপ থেকে একজন উদ্ধার হয়েছিলেন। সুতরাং, জীবিত উদ্ধারের আশা একেবারে ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না।
ধ্বংসস্তূপে মানুষ কিংবা পশুপাখি সবার প্রাণকে প্রাধান্য দিয়েই উদ্ধার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। বৃহস্পতিবার আধা ঘণ্টার চেষ্টার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি কুকুরকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরে আনন্দিত হয়ে পড়েন তারা।
ভূমিকম্পে ইতালির আমাত্রিস শহরটি কার্যত ধ্বংসস্তূপের শহরে পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের রোমের উত্তর-পূর্বের শহর আমাত্রিসের মেয়র সার্জিও পেরোজ্জি জানান, সেখানকার অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
তিনি বলেন, ‘শহরের অনেক অট্টালিকা মাটিতে গুড়িয়ে গেছে। অনেক গ্রাম গায়েব হয়ে গেছে। অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শনও ধ্বংস হয়ে গেছে।’
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ইতালিতে অনুভূত হওয়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৩শ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/








