দেশের জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর শত শত প্রতিনিধির সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করেছে মিয়ানমারের নতুন সরকার। কয়েক দশক ধরে চলা বিদ্রোহের অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে বুধবার (৩১ আগস্ট) থেকে এ শান্তি আলোচনা শুরু হয়। পাঁচদিন ধরে এ আলোচনা চলার কথা রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে জাতিগত গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা নাই পি দোর কনফারেন্স হলে প্রবেশ করেন। অং সান সুচি’র সরকারই এ শান্তি আলোচনার ডাক দিয়েছে। সাংবিধানিক বাধার কারণে প্রেসিডেন্ট না হতে পারলেও স্টেট কাউন্সেলর সুচিকেই মিয়ানমারের বর্তমান সরকারের প্রধান বলেই বিবেচনা করা হয়।
শান্তি আলোচনাবিষয়ক এ সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনও যোগ দিয়েছেন। সম্মেলনটির নাম দেওয়া হয়েছে ইউনিয়ন পিচ কনফারেন্স-টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি পাংলং। ১৯৪৭ সালে অং সান সুচির প্রয়াত বাবা জেনারেল অং সান-এর উদ্যোগে পাংলং শহর নিয়ে স্বাক্ষরিত পাংলং চুক্তির আলোকে এ সম্মেলনের নামকরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতিগত গোষ্ঠীর স্বায়ত্তশাসন এবং আলাদা হয়ে যাওয়া অধিকার দিয়ে ১৯৪৭-এর পাংলং চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার মাত্র এক বছর আগে চুক্তিটি করা হয়। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরের বছর অং সান হত্যার শিকার হন এবং চুক্তিটি ভেস্তে যায়। সেই থেকে পরবর্তী সরকারগুলো পাংলং চুক্তিকে সম্মান দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করে আসছে জাতিগত গোষ্ঠীগুলো। ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর পরই বিদ্রোহ শুরু করে কারেনরা। এরপর আস্তে আস্তে অন্য জাতিগত গোষ্ঠীগুলোও অস্ত্র হাতে তুলে নেয়।
বুধবার নতুন করে শুরু হওয়া শান্তি আলোচনায় কারেন, কোচিন, শান ও ওয়াসহ মিয়ানমারের ২০টি বিদ্রোহী জাতিগত গোষ্ঠীর ১৭টির প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। ক্ষমতায় আসার পর অং সান সুচি অঙ্গীকার করেছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। পাঁচদিনের শান্তি আলোচনায় মিয়ানমার সরকার চায়, বিদ্রোহীরা অস্ত্র ছেড়ে দেবে। আর বিনিময়ে নতুন প্রাদেশিক ব্যবস্থায় জাতিগত গোষ্ঠীগুলোকে আরও ক্ষমতা দেওয়া হবে। এদিকে আলাদা করে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গারাও সরকার থেকে কিছু আশা করে।
/এফইউ/








