স্বায়ত্তশাসন চায় হংকং, আইন পরিষদের নির্বাচনে চীনবিরোধী তরুণদের বিজয়

বিদেশ ডেস্ক
০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৭:৫৭আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ২৩:৫৬
image





স্বায়ত্তশাসনের পক্ষেই রায় দিয়েছে হংকং। আইন পরিষদ নির্বাচনে জয় পেয়েছে এক নতুন প্রজন্ম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বিজয়ীরা চীনের শাসনের পরিবর্তে স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে।
রবিবারের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়েছে। ভোট পড়েছে ৫৮ শতাংশ। ভোটার অংশগ্রহণের পরিমাণ ২০০৮ সালের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ডেমোসিস্টো পার্টির ল’ আইন পরিষদের আসন নিশ্চিত করেছেন।

নাথাইল র`র সমর্থকদের উল্লাস

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন ২০১৪ সালে স্বাধীনতাপন্থি আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাথান ল। তিনি ২০১৪ সালে সংঘটিত আমব্রেলা আন্দোলনে সামনের কাতারের নেত্বৃত্বে ছিলেন তিনি। ভোটে স্বাধীনতাপন্থি ইয়ংস্পিরেশন দলের আরও দুই সদস্য জয়ের কাছাকাছি আছেন। এরাও ২০১৪ সালের ‘আমব্রেলা আন্দোলনে’ সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্য হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তরের পর থেকে মৌলিক আইন সম্বলিত চীনের অধীনস্ত একটি সংবিধান রয়েছে দেশটির। যার মাধ্যমে কিছু সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। গত ৫০ বছর ধরে চলা চীনের ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ওই সংবিধান। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের এক ম্যাগাজিনে এ বছরন মার্চে ‘আমাদের ২০৪৭’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৪৭ সালের মধ্যে জাতিসংঘ হংকংকে সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা দেবে, একইসঙ্গে সেখানে একটি গণতান্ত্রিক সরকার থাকবে এবং তার নিজস্ব সংবিধান থাকবে। ওই প্রতিবেদনে হংকংয়ের স্থানীয় সরকারকে বেইজিংয়ের পুতুল বলেও উল্লেখ করা হয়।  কমিউনিস্টশাসিত চীন হংকংকে নিয়ন্ত্রণ করলেও সেখানে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা বলবৎ; হংকংয়ের কারণেই চীনে ‘এক দেশ দুই নীতি’ পদ্ধতি চালু আছে।

হংকংয়ে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে পুলিশ


আমব্রেলা নামের ওই আন্দোলনে হংকং-এর সংবিধান পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছিল, যেন চীনের বলয় থেকে খানিকটা বের হয়ে আসা যায়। আন্দোলনের সময় বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্যিক রাজধানী হংকং কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। চীন আন্দোলনকারীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ওই আন্দোলনের স্বীকৃতি দেয়নি।

হংকংয়ের রাজনীতি, অর্থনীতিসহ যাবতীয় বিষয়ে চীন ‘মাত্রাতিরিক্ত নাক গলাচ্ছে’ বলে অভিযোগ তুলেছিল আন্দোলনকারীরা। তারা তখন বলেছিলেন, চীনের ওই একগুঁয়েমির কারণে ‘এক দেশ দুই নীতি’ পদ্ধতি হুমকির মধ্যে পড়ছে। তবে বেইজিং বারংবার তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, দুই ধরনেরর শাসনব্যবস্থা অটুট রাখার। ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতিতে হংকং কিছু মৌলিক স্বাধীনতা ভোগ করে।

ভোটের দিনে পিপলস স্কয়ার

২০১০ সালে পাস হওয়া সংবিধান অনুযায়ী ৭০ আসনের হংকংয়ের আইন পরিষদের ৩৫ আসনে ভোটারদের সরাসরি ভোটে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বশীল পদ্ধতিতে ভোট হয়। এই পরিষদের আইন প্রণয়ন এবং আঞ্চলিক বাজেট প্রণয়নের ক্ষমতা রয়েছে। তবে ওই ৭০ বিধানসভা আসনের মধ্যে ৩৫ টিতে সরাসরি ৩.৮ মিলিয়ন রেজিস্টার্ড ভোটারদের ভোটে প্রার্থী নির্বাচিত হন। অন্য ৩০টি আসন ‘কার্যকরী বিধানসভা’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এগুলো সুর্নিদিষ্ট পেশা ও বাণিজ্যের মানুষজনের জন্য সংরক্ষিত। এই আসনগুলো ৬ শতাংশ মানুষের জন্য বরাদ্দ যারা চীনপন্থী। আর বাকি যে ৫ টি বিধানসভা আসন, সেইসব আসনে কেবল সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেন। এই আসনগুলো সুপারসিট হিসেবে বিবেচিত হয়।

হংকং নির্বাচনের ব্যালট বাক্স

আইন পরিষদে চীনা আধিপত্যই শেষ নয়। হংকংয়ের প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য শীর্ষ নেতারা চীনের মনোনীত হয়ে থাকেন। আইন পরিষদের ভোট এ মনোনয়নে তেমন প্রভাব ফেলে না। সেকারণে চীনবিরোধী তরুণদের নিরঙ্কুশ জয়ের পরও বেইজিংয়ের কর্তৃত্ব বলয় থেকে বের হতে পারছে না হংকং। তবে আইন পরিষদের এ ভোটে ল’র জয় হংকংয়ের চীনপন্থী দলগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা একে হংকংয়ের তরুণ প্রজন্মের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা হিসেবে দেখছেন। দেখছেন আত্মসত্তার লড়াই হিসেবে। তবে ভোটে স্বাধীনতাপন্থিদের ভোট বাড়ায় তা চীনপন্থী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সিওয়াই লিউং এর দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসার সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ভোটের পুরো ফল সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ পাওয়া যাবে।

/বিএ/

সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম